চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কবে হবে বোধোদয়

বাঙালি জাতিকে নিয়ে অতিপরিচিত একটা কথা প্রচলিত আছে, তাহলো ‘আমরা মরার আগে জেগে উঠি না’। এই কথার মানে আমরা সবাই জানি, সহজে আমাদের বোধ জাগ্রত হয় না। তার জন্য বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়। মোট কথা সহজ জিনিস আমরা সহজে বুঝতে চাই না।

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রস্তুতিতে অনেক দেরিতে আমাদের ঘুম ভেঙেছে, এটা অস্বীকার করার আর কোনো সুযোগ বা উপায় নেই। এতে যা ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে গেছে। সেই ক্ষতির মাশুল জাতিকে কীভাবে দিতে হয়, তা শুধু সময়ই বলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দুই সপ্তাহ আগে ৮ মার্চ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর প্রথমবার যখন দেশে করোনা আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করে; তার আগে থেকেই এই ভাইরাস নিয়ে সন্দেহ ছিল। যখন দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদেশফেরত কিছু ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেই সন্দেহ আরও দৃঢ় হতে থাকে। যদিও সরকার তা বারবার অস্বীকার করে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

অনেকেরই বিশ্বাস যেভাবেই হোক, এই মুহূর্তে দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। আইইডিসিআর নিজেই বলছে, সীমিত আকারে হলেও গণসংক্রমণ হয়েছে। আর তা নিয়ন্ত্রণে ১০ দিনের অঘোষিত ‘লকডাউন’সহ কিছু জরুরি পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সবধরনের অফিস বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই মানুষ ভিড় করে, দল বেঁধে ছুটতে শুরু করলেন গ্রামের দিকে। বিশেষ করে গতকাল গণপরিবহণ, রেল, নৌযান এবং উড়োজাহাজে মানুষ চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পরপরই শুরু হয়ে যায় ছুটাছুটি। কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রেখে ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে ছুটতে থাকে মানুষ। যেন ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে যোগ দিতে চলেছেন।

অথচ সরকার এই সব মানুষের নিরাপত্তার জন্যই বন্ধ করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত সব কিছু। তাদের কানের কাছে হাজার বার বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাস জনসমাগমের মধ্যে থেকেই বেশি ছড়ায়। ছোঁয়াচে এই রোগ হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই মুখে মাস্ক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে না চললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

এটা ঠিক, এই শহরে অনেকেই আছেন- যারা আরেক বেলা কী খাবেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। আবার বড় একটা সংখ্যক মানুষের প্রতিদিন রোজগার না করলে তাদের বাসায় উনুন জ্বলে না। এই বন্ধে তাই ছুটেছেন গ্রামে, সেখানে আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে এক সাথে থাকবেন। মরণ হলেও এক সাথে মরবেন।

আবেগী জাতি হিসেবে আমাদের সুপরিচিতি আছে- এটা যেমন সত্যি, আবার দায়িত্বহীনতার নির্দশনও আমাদের সামনে কম নেই। কিন্তু রোগ যে কাউকে ছাড়ে না, সে কথা এই জাতিকে বোঝাবে কে? কবে হবে বোধোদয়? এখন আর কোনো পথ নেই, বাঁচতে হলে কিছু বিষয় মেনে চলতেই হবে। হোক সে ধনী কিংবা গরীব, করোনা ভাইরাস এসব দেখে না।