চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কবে পাওয়া যাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল?

বহুল কাঙ্ক্ষিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে ভোট গণনা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফলাফলে রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেনের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই।

৪১টি রাজ্যের ফলাফল পাওয়া গেছে। ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে জো বাইডেন পেয়েছেন ২২৪টি। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৩টি।  সর্বশেষ ফলাফলে জো বাইডেন এগিয়ে আছেন। তবে সুইং রাজ্যগুলো নিয়ে চলছে লড়াই। যে রাজ্যগুলো যেকোনো মুহুর্তে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তার ওপর আছে ১০ কোটির বেশি ডাকযোগে ভোট। যা গণনা করার সময় সাপেক্ষ।

বিজ্ঞাপন

সুইং স্টেটগুলো নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী ভাবছেন।  তবে ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় জিতে যাচ্ছেন। এখানে ডেমোক্র্যাটরা আগে থেকেই কোনঠাসা। অ্যারিজোনায় ১৯৯৬ সালের পরে কোন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জেতেনি। এখানে বাইডেন জিতছেন। উইসকনসিন এবং পেনসিলভানিয়া এখনও পোস্টাল ভোট গণনা শুরু করেনি এবং এক্ষেত্রে কয়েকদিন লেগে যেতে পারে। জর্জিয়া, মিশিগান এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় এখন পর্যন্ত মোটামুটি সমতা বজায় আছে। কিন্তু এসব রাজ্যে ট্রাম্প নিজেকে এগিয়ে রাখছেন।

ভোট গণনার মাঝেও তাই তিনি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।

বিজয়ী দাবি করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে। তিনি ভোট গণনা বন্ধ করে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে লড়াই করতে সুপ্রিমকোর্টে যাবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে জো বাইডেন বলেছেন, তিনি সঠিক পথে আছেন। জয়ের সম্ভাবনার পথে আছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা ভালো অবস্থায় আছি। সেটা অনুভব করছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, নির্বাচনে জেতার পথে আছি।  সম্পূর্ণ ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষ না হওয়া অবধি আমরা অপেক্ষা করবো। প্রতিটি ভোট ও গণনা না হওয়া পযন্ত শেষ হবে না।

আর ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণা ও ভোট কারচুপির অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির।

তারা বলছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য বিব্রতকর, অভূতপূর্ব ও মিথ্যাচার। এর নিন্দা জানাই। এটি আমেরিকার নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার নগ্ন প্রচেষ্টা।

আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারী নিয়ে জো বাইডেনও সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোট গণনা বন্ধ চেষ্টায় আদালতে গেলে আমার আইনজীবীরা প্রস্তুত তা মোকাবেলার জন্য।

বিবিসি বলছে, তার অর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে আদালত কর্তৃক।  সেক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় গড়িয়ে যেতে পারে ফলাফল পেতে।  এতো সহজেই জানা যাচ্ছে না কে হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ডাকযোগে প্রত্যাশিত ভোটের বেশি ভোট পড়ায় চলতি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পেতে কয়েকদিন, এমনকি সপ্তাহও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এর আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো ২০০০ সালে। জর্জ ডব্লিউ বুশ এক মাস পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন সেবার।