চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এস কে সিনহাসহ ১১ জনের মামলার রায় আবার পেছাল

চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা-সহ ১১ জনের রায় ঘোষণার দিন দ্বিতীয়বারের মতো পিছিয়েছে। রায়ের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৯ নভেম্বর।

এর আগে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই রায় ঘোষণার জন্য ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছিলেন। তবে ওইদিন বিচারক ছুটিতে থাকায় রায়ের দিন পিছিয়ে ২১ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন।

আজ বৃহস্পতিবার রায় না দিয়ে আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।

২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। যেখানে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

এরপর গত বছরের ১৩ অগাস্ট ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম।

এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় আলাদা দুইটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য পরদিন তারা ওই ব্যাংক থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেন। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ঋণের আবেদনে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়, যেটির মালিক ছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

অন্যদিকে ঋণ আবেদনে জামানত হিসেবে আসামি রনজিৎ চন্দ্রের স্ত্রী সান্ত্রী রায়ের নামে সাভারের ৩২ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয়। এই রনজিৎ চন্দ্র ও তার স্ত্রী এস কে সিনহার ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও মামলার এজাহারে বলা হয়, ঋণের আবেদন করার পর ‘অস্বাভাবিক দ্রুততার’ সঙ্গে তা অনুমোদন করা হয়। পরদিন মোট চার কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয় এস কে সিনহার নামে। যা সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে সে টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে এস কে সিনহার ভাইয়ের নামে শাহজালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখার অ্যাকাউন্টে দুটি চেকে দুই কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়।

এই মামলার তদন্ত শেষে দুদক কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন। সে অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংকে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে সেই টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও পাচার করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

গত বছরের ১৩ অগাস্ট ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এই মামলার বিচার শুরু করেন ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম। যেখানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়কে পলাতক দেখিয়ে বিচার চলে।

আর আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের মো. শাহজাহান ও একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। এদের মধ্যে শুধু বাবুল চিশতী রয়েছেন কারাগারে, অন্যরা আছেন জামিনে।

দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এসকে সিনহা। পরবর্তীতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও কিছু পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষাপটে নানা নাটকীয়তার পর ২০১৭ সালের অক্টোবরে ছুটিতে যান ততকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

পরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরবর্তীতে বিদেশ থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন এস কে সিনহা। একপর্যায়ে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে জানা যায় এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় গিয়ে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন