চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এমভি নাসরিন ডুবি: ১৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রায় বহাল

চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মোহনায় এমভি নাসরিন-১ লঞ্চ ডুবিতে ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা দিতে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন হাই কোর্ট।

সেই সঙ্গে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে এবং আহতদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপুরণ দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রায় দেয়।

গত ২৪ মে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হলে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে।

বিজ্ঞাপন

চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ২০০৩ সালের ৮ জুলাই এমভি নাসরিন-১ লঞ্চ ডুবিতে নিহত হন ১১০ জন, নিখোঁজ হন ১৯৯। ওই নৌ দুর্ঘটনায় লঞ্চটির মালিক নিহত হন। এরপর একই বছর চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক লঞ্চ ডুবিতে ক্ষতিগ্রস্থ ৪শ জনের তালিকা প্রকাশ করে। সে তালিকা অনুযায়ী নৌ-দূর্যোগ ট্রাস্টি বোর্ড নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়। যার পরিমাণ ৭০ লাখ টাকার উপরে।

নিহত ব্যক্তিদের দেওয়া ক্ষতিপূরণ অপ্রতুল দাবি করে ২০০৪ সালে ঢাকার তৃতীয় জেলা জজ আদালতে নিহতদের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ মামলা করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। মামলায় ২৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। মামলায় নিহতের সংখ্যা বলা হয় একশ ২১ জন।

এ মামলা ২০১২ সালে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালত-৭ এ পাঠানো হয়। এ আদালত ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রায় দেয়। রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা দিতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিবাদীরা জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ চেয়ে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন জানায়। আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএসহ বিবাদীপক্ষ ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর হাই কোর্টে রিভিশন আবেদন করে। হাই কোর্ট পরদিন নিম্ন আদালতের রায় কেন বাতিল ও রদ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। এ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয় গত ২৪ মে। এ অবস্থায় সোমবার রুল খারিজ করে হাই কোর্ট রায় দেয়।

হাই কোর্টে ব্লাস্টের পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও সুব্রত চৌধুরী। বিআইডব্লিউটিএসহ অন্যান্য বিবাদিরে পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, অ্যাডভোকেট রাফসান আলভী ও ইশরাত হাসান।

রায়ের পর অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, হাই কোর্ট নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে এবং আহত অবস্থায় বেঁচে থাকা প্রত্যেককে এক লাখ টাকা দিতে বলেছে। তবে লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

বিজ্ঞাপন