চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এমন হামলা কাম্য নয়

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দের পর উৎসবমুখর পরিবেশে যখন প্রার্থী সমর্থকদের মাঠের লড়াই শুরু হলো, ঠিক তখনই এলো অপ্রত্যাশিত খবর। ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি মহাসচিবের প্রচারণার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ইতোমধ্যে খবরের শিরোনাম হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়া দু’জন নেতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা এবং গণসংযোগ করতে যাওয়ার পথে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, হামলাকারীরা বহরের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।

চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়: নোয়াখালী ও বগুড়ায় ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালীর কবিরহাটে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পূর্ব ঘোষিত পথসভায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে মওদুদ আহমদের সমর্থকরা। সেসময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

Advertisement

এছাড়া বগুড়া-৫ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জিএম সিরাজের গাড়ি বহরের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি একটি জিপ ও মাইক্রোবাস নিয়ে ধুনট সদরে পৌঁছুলে প্রার্থীকে বহনকারী জিপ ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী মাইক্রোবাস এবং ৫টি মোটরবাইক ভাংচুরের শিকার হয়। ঘটনার পর প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে হামলার জন্য তার প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছেন।

আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, নির্বাচনকে সামনে রেখে অপ্রীতিকর ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। দেশের মানুষ এখন যে নির্বাচনী আমেজে রয়েছে, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।

বিএনপি নেতারা এসব হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ওপর সব দোষ চাপিয়েছেন। কিন্তু সরকারি দলই যে দায়ী সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের মধ্যে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে বিএনপি বা অন্য কোনো পক্ষও যদি এসব হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকে, তার দায়ও সরকার এড়াতে পারে না। এসব দুর্বৃত্ত যে বা যারা হোক, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকেই।

এবারের নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। কারণ, এই প্রথমবারের মতো দলীয় সরকারের অধীনে রেকর্ড সংখ্যক রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সুতরাং এখন দায়িত্বের বাধ্যবাধকতা ক্ষমতাসীন দলের ওপরই বেশি বর্তায়। তাই এসব অপ্রীতিকর ঘটনার বিরুদ্ধে শুরুতেই কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় অর্থবহ হয়ে উঠুক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।