চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এভাবেও ভালোবাসা যায়

আবেগ কেন্দ্রিক মানবিক অনুভূতির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশই ভালোবাসা। যে ভালোবাসা হতে পারে বহুমাত্রিক। আর দিবস কেন্দ্রিক না হয়ে ভালোবাসা কালজয়ী উপাখ্যানেও রূপ নিতে পারে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তেমনই এক অনবদ্য ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ থেকে আদালত কেন্দ্রিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস।

স্কুলে পড়া অবস্থায় ৭ মার্চের ভাষন শোনার পর থেকেই সুবীর নন্দীর মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার ঢেউ খেলে যায়। সুনামগঞ্জের ছেলে সুবীর তার মনের মণিকোঠায় ধারণ করেন প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুকে। স্কুল-কলেজ ও পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে সুবীর নন্দী যোগ দেন আইন পেশায়। দলীয় কিংবা সাংগঠনিক রাজনীতির সাথে নিজেকে না জড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ থেকে হাইকোর্টে করেন আলোচিত এক রিট। যে রিটে দেশের সব আদালত কক্ষে জাতির জনকের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

মাত্র তিন বছর হাইকোর্টে প্রাকটিস করা একজন তরুন আইনজীবীর এমন তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ে রিট করা দেখে অনেকই সুবীর নন্দীকে ‘সাহসী’ বলে প্রশংসা করেন। আবার অনেকেই এই রিট করা নিয়ে বিভিন্ন ভাবে আশাহত করেন। কেউ কেউ সুবীর নন্দীকে বলেন যে, ‘কিছুদিন আগে আদালতের সামনে ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এখন আবার আদালতে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানাতে গেলে দেখো কোন ঝামেলা না তৈরি হয়।’

বিজ্ঞাপন

তবে এসব কথায় থেমে যাননি তরুণ সুবীর নন্দী, নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থেকে আইনী যুক্তি আর ব্যাখ্যা দিয়ে লড়েছেন রিট। রিটের শুনানিতে তিনি হাইকোর্টকে দেখিয়েছেনে ব্ল্যাক ল’ ডিকশনারিতে থাকা এসংক্রান্ত আইনী ব্যাখ্যা আর কয়েকটি দেশের রেফারেন্স। শুনানির একপর্যায়ে পৃথিবীর ২০টি দেশের রেফারেন্স তুলে ধরে আদালতকে সুবীর নন্দী বলেছে, এসব দেশে তাদের জাতির জনক বা ন্যাশনাল হিরোর ছবি আদালতে আছে। আইন আর সাংবিধানিক নানা যুক্তি উপস্থাপনের পর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ দেশের সব আদালত কক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবি

হাইকোর্টের এই আদেশের পরই আইন মন্ত্রণালয় দেশের সকল অধস্তন আদালত কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এরপর ছবি টাঙানো শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টসহ দেশের সব আদালত কক্ষে। এর মধ্য দিয়েই বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রামের মহান নেতার ছবি স্থান করে নেয় দেশের সব আদালতে।

এমন ঐতিহাসিক অর্জনের পর অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস বলেছিলেন: স্বাধীন বাংলাদেশে এতদিন স্বাধীনতার স্বপ্নপুরুষের ছবি আদালতে স্থান করে নিতে পারেনি। অনেকেইতো ছিলেন এবং আছেন কিন্তু কেউ এবিষয়ে পদক্ষেপও নেয়নি। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসা একজন তরুণ হিশবে আমি গর্বিত। কারণ আমার করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ দেশের সব আদালতে বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট কিংবা দেশের অন্য যেকোন আদালতে ঢুকলেই এখন নিজের মধ্যে একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। আর আদালত কক্ষে যখন অন্য কোন বিজ্ঞ আইনজীবী আমাকে দেখিয়ে বলে যে, ওই তরুণ আইনজীবীর রিটেই বঙ্গবন্ধুর ছবি আজ আদালত কক্ষে; তখন নিজেকে গর্বিত মনে হয়। এমন বাস্তবতায় আমি মনে করি, যে কেউ তার নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে তার মত করে তার ভালোবাসার বিষয়টিকে অর্জন কিংবা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এক্ষেত্রে কেবলই মিছিল-মিটিং কিংবা পদ পদবির সাংগঠনিক রাজনীতি করতে হবে তেমন নয়। আমি যেমন আমার ক্ষেত্র থেকে আমার মত করে আমার প্রিয় নেতার প্রতি ভালোবাসাকে আইনী ভিত্তি দিয়ে ভিন্ন মাত্রায় প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমি আমার জায়াগা থেকে এটাই মনে করেছি যে, এভাবেও ভালোবাসা যায়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)