চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এফএও: আগের লক্ষ্য নিয়েই ৭৫ বছরেও নতুন

এক মহামারির সময়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এর জন্ম। এতটা সময় পেরিয়ে এসে আরও এক দুর্যোগের পরে তার উদ্দেশ্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

পরিচালক হিসেবে যখন দায়িত্ব নিলাম তখন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। চীনের এক কৃষক পরিবারে আমার জন্ম। এমন একটি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসতে পারাটা যথেষ্ট বিস্ময়কর ছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে আমার ভাবনাতেও ছিলো না যে আমার স্বল্প সময়ের কার্যকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে দেখা যায়নি এমন আরেকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। করোনাভাইরাস মহামারিটি কেবল মানবজীবন এবং স্বাস্থ্যকেই ক্ষতিগ্রস্থ করেছে না, এর কারণে বিশ্বজুড়ে কয়েক মিলিয়ন মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখোমুখি।

বিজ্ঞাপন

১৯৪৫ এ ফিরে যাই, এফএওও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সে বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে অপুষ্টি ও সংশ্লিষ্ট রোগে মারা গিয়েছিলে অনেকে। তাই ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য সংস্থা প্রতিষ্ঠিত করা হলো।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের আগেও ৭০০ মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টির শিকার ছিল। প্রতিষ্ঠাতারা চেয়েছিলেন বিশ্বের আশার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে। এই মহামারিতে সেই তালিকায় যোগ হবে আরও ১৩০ মিলিয়ন মানুষ।

করোনা মহামারি শুরুর দিকে যখন তাকগুলো খালি হয়ে গেল, ফল সংগ্রহকারীদের খোঁজ মিললো না, বাজার নিস্তব্ধ হয়ে পড়লো তখন তাদের সেবাগুলোর গুরুত্ব আমরা বুঝলাম। যুদ্ধের পর বিশ্বকে খাদ্য সরবরাহ যতটা জরুরি ছিল এখনও ঠিক ততোটাই।

প্রথম বছরে এফএও খামারের প্রাপ্তি প্রসারিত করা, ফলন বাড়ানো, সমর্থন করা, যান্ত্রিকীকরণ এবং সেচ প্রকল্পে নজর দেয়। পরবর্তীকালে কয়েক দশক শেষে তার দৃষ্টিভঙ্গি আরও জটিল হয়ে উঠল। তাতে অংশ নেয় পরিবেশগত এবং টেকসই ভাবনা।

২০১০ এর মধ্যভাগ পর্যন্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব বেশ অগ্রগতি করছে। তারপর ক্ষুধা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। তার দায় দিতে হবে সংঘর্ষ ও পরিবেশগত ধরণকে। এখন যাদের খাবার প্রয়োজন তাদের কাছে তা পৌছে দিতে আধুনিক ও পদ্ধতিগত পদক্ষেপ দরকার।

আমরা দিবাস্বপ্ন দেখি না। পুষ্টিকর খাবার ও খাদ্য সুরক্ষা সবার জন্য জরুরি। সেসব নিয়েই পরবর্তীতে কাজ করবে এফএও। হাতে হাত রেখে কাজ করার পদক্ষেপ নিলেই কৃষির পরিবর্তন হবে। দারিদ্র ও ক্ষুধা আক্রান্ত দেশগুলোর টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।