চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক কারাগারেই ১৩ হাজার মানুষের ফাঁসি

গত পাঁচ বছরে সিরিয়ার একটি কারাগারে প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকার। তাদের অধিকাংশই সরকারবিরোধী বেসামরিক ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আদেশে এসব দণ্ড কার্যকর করা হয়। গোপনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক অধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কুখ্যাত সেডনায়া কারাগারে গণহারে বন্দিদের ফাঁসিতে ঝোলানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে কারাগারে বন্দিদের ওপর অত্যাচার কিংবা তাদের হত্যার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে আসাদ সরকার।

মূলত প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে অ্যামনেস্টি। এজন্য সাবেক বন্দি, কারারক্ষী ও কর্মকর্তাসহ মোট ৮৪ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বন্দিদের সামরিক আদালতে বিচার করা হতো। কয়েক মিনিটের মধ্যে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হত। ফাঁসি কার্যকরের দিন বন্দিদের বলা হত, তাদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এরপর তাদের ভূগর্ভস্থ সেলে ফেলে নির্মম নির্যাতন করার পর মধ্যরাতে তাদের চোখ বেঁধে কারাগারের অপর অংশে নিয়ে তাদের ফাঁসি দেয়া হতো। এমনকি ফাঁসি কার্যকরের সময় কেউ মারা না গেলে, উচু থেকে ফেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পরে মরদেহগুলো গণকবর দেয়া হয়।

গত আগস্টে অ্যামনেস্টির অারেকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কারাবন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়ে কিংবা কারাগারে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার অভাবে সিরিয়ায় অন্তত ১৭ হাজার ৭২৩ জন নিহত হয়েছেন। ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন করা হলেও, সেখানে সেডনায়া কারাগারে নিহতরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

জাতিসংঘের হিসেব মতে, সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী প্রতিবাদ শুরু পর থেকে এ পর্যন্ত চার লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া বাড়ি-ঘর হারিয়েছে আরও লাখ লাখ মানুষ।

Bellow Post-Green View