চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নানা ‘অসংগতি’ রেখে ১ মাস পর নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার রিপোর্ট প্রকাশ

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার একমাস পর বিধ্বস্তের একটি প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে নেপালের তদন্ত কমিশন। নেপালের তদন্ত কমিশন সম্প্রতি বিধ্বস্তের ওই প্রাথমিক রিপোর্টে ২ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে।

রিপোর্টের উপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানাতে গিয়ে ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ বলেন, রিপোর্টটিতে কিছু অসংগতি আছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। আমি মনে করি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ৩০ দিন পর রিপোর্টে ওই বিধ্বস্তের ঘটনার আরও অসংগতি বের করা যেত।

ইমরান আসিফ বলেন, রিপোর্টে ২ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ্য করা হয়, কিন্তু স্টাফ ও বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছে বিধ্বস্তের ২ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি।

‘বিধ্বস্তের আগে ত্রিভুবনে ইউএস-বাংলার স্টাফরা বিমানটি অবতরণের অপেক্ষা করছিল কয়েকজন স্টাফ। সেসব স্টাফ এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, ২ মিনিটে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছেনি। উদ্ধারকাজ শুরু করতে সময় লেগেছে। আর যেই জায়গায় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পরে, সেখানে ২ মিনিটের মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব বলে আমার মনে হয়নি। ২ মিনিটের মাথায় উদ্ধারকাজ শুরু হলে আরও যাত্রীর প্রাণ বেঁচে যেত।’

Advertisement

রিপোর্টে একটি তথ্য থাকা উচিৎ ছিল বলে ইমরান আসিফ বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময়কালীন দায়িত্বরত ৬ জন কন্ট্রোলারকে তড়িঘড়ি করে দুর্ঘটনার পরদিন বদলির আদেশ দেয়া হয়। তাদের কেন বদলি করা হয়েছে, তা আমরা জানি না। তবে গাফলতি ছাড়া এমন পদক্ষেপ নেয়া স্বাভাবিক নয় বলেই আমি মনে করি। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে তাদের ব্যাপারে কোন কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।’

‘অবতরণের সময় ইউএস-বাংলার প্লেনটির অ্যালাইনমেন্ট ঠিক ছিল না।’ সম্প্রতি বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থার এক কর্মকর্তার গণমাধ্যমে এই মন্তব্য করেন। এবিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নেপালের অফিসিয়াল তদন্ত কমিশনে অ্যালাইনমেন্টের বিষয়ে কিছু লেখা নেই। তাই এবিষয়ে আমাদের কারও ধারণা করাটাও সঠিক নয়।

ইমরান আসিফ বলেন, ‘রিপোর্টে বলা হয়েছে, সে সময় ২৫ সেকেন্ডের জন্য ককপিটের সঙ্গে টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।’ এটি কিন্তু স্বাভাবিক, কেননা সাধারণত ফাইনাল ল্যান্ডিং অ্যাপ্রোচের সময় টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথাবার্তা হয় না।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা ত্রিভুবনের এটিসি টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের আন-অফিশিয়াল অডিওটি শুনেছেন। টাওয়ার থেকে পাইলটকে বিভ্রান্তিকর নির্দেশাবলী দেয়া হয়েছিল। কাঠমান্ডুর টাওয়ার থেকে ইউএস-বাংলার বৈমানিক ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স প্রদান করার পর সেই ক্লিয়ারেন্স বাতিল না করেই এয়ারক্রাফটটিকে অন্যত্র হোল্ড করতে বলা হয় এবং একই সময় অন্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি অবতরণ করতেও দেয়া হয়। একটি ফ্লাইটকে দেয়া ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স বাতিল না করেই অন্য ফ্লাইটকে অবতরণ বা উড্ডয়ন করতে দেয়াও আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যতয় বলে আমরা জানি।

নেপালের তদন্ত রিপোর্ট আমরা অগ্রাহ্য করছি না জানিয়ে ইমরান আসিফ বলেন: রিপোর্টটিতে কিছু অসংগতি আছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টটিতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। রিপোর্টের এ বিষয়টি আমাদের ভালো লাগেনি। আমরা রিপোর্টটি অগ্রাহ্য করছি না কিন্তু ৩০ দিন অনেক সময়। আমি মনে করি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ৩০ দিন পর রিপোর্টে ওই বিধ্বস্তের ঘটনার আরও অসংগতি বের করা যেত।

গত ১২ মার্চ নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। তাদের মধ্যে ৩৩ জন বাংলাদেশি, একজন মালদ্বীপ, একজন চাইনিজ এবং নেপালি ৩২ যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ৫১ জনের প্রাণহানি ঘটে।