চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একদিনে বাংলাদেশের ‘ডাবল’ ভারত চ্যালেঞ্জ

সল্টলেকের যুব ভারতী স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বাংলাদেশ-ভারত লড়াই নিয়ে উত্তেজনায় ফুটছে দুদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। ৩৪ বছর পর কলকাতার মাটিতে হতে যাওয়া প্রতিবেশী দুদলের মহারণের তীব্রতা এতটাই যে, খানিকটা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে মর্যাদার আরেক বাংলাদেশ-ভারত চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় যখন জাতীয় দল নিয়ে ভারতের মুখোমুখি হবেন জামাল ভূঁইয়ারা, তারও দুই ঘণ্টা আগে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার দখলে নিতে ভারতের বিপক্ষে লড়বে লাল-সবুজের কিশোরীরা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের কারণে ছেলেদের লড়াইটা যেমন গুরুত্বের, তেমন মর্যাদারও। তবে কিশোরীদের ম্যাচটাও গুরুত্ব-মর্যাদায় বিবেচনায় কোনো অংশে কম নয়। বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাইয়ে ভুটানের কাছে হেরে গত কয়েকবছরে যখন চোখের আড়ালে চলে যাচ্ছিল ছেলেদের ফুটবল গৌরব, তখন বিজয়ের পতাকা উঁচু করে রেখেছিল মেয়েরাই। মারিয়া মান্ডা-মনিকা চাকমাদের অনূর্ধ্ব-১৫ দল ২০১৭ সালে ঘরের মাটিতে এনে দিয়েছিল কাঙ্ক্ষিত এক সাফ শিরোপা। পরে মিলেছে আরও অনেক সাফল্য।

বয়সের কারণে মারিয়ারা খেলতে পারছেন না বর্তমান সাফে। সেই অভাবটা বুঝতে দিচ্ছেন না শামসুন্নাহার জুনিয়র। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে এরইমধ্যে দলকে তুলে এনেছেন আসরের ফাইনালে। প্রতিপক্ষ সেই চিরচেনা ভারত।

বিজ্ঞাপন

নারী-পুরুষ উভয় জাতীয় দলের বিপক্ষে ভারত কঠিন এক প্রতিপক্ষ হলেও বয়সভিত্তিক ফুটবলে প্রতিবেশী দেশটির বিপক্ষে সমানে সমান লড়াই চলে বাংলাদেশের। ২০১৭ সালে প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৫ সাফের যে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা, তার প্রতিপক্ষ ছিল এই ভারতই। সেবার শামসুন্নাহার সিনিয়রের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের ছাত্রীরা।

পরের বছরই অবশ্য শোধ তুলেছিল ভারত। শিরোপা ধরে রাখার জোর দাবি নিয়ে ফাইনালে উঠে আসা বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে ট্রফি জিতেছিল ঠিক ১-০ ব্যবধানেই। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের ফাইনালে দুই দলের সামনেই সুযোগ থাকছে শিরোপার ব্যবধান বাড়ানোর।

শুধু নিজেদের ব্যবধান বাড়ানোই নয়, অনূর্ধ্ব-১৫ কিশোরীদের জন্য একইদিনে সুযোগ থাকছে ছেলেদের জন্য প্রতিশোধ ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করার! গত মাসে ভারতের যুবাদের কাছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা খুইয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দল। ৯ জনের দল নিয়ে লড়ে শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ হয় যুবাদের। শামসুন্নাহার, রিপাদের সামনে সুযোগ সেই আক্ষেপও খানিকটা ঘোচানোর।

সেখানে যুবভারতী স্টেডিয়ামের লড়াইটা দুই দলের জন্যই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান ও কাতারের কাছে হেরে এখন পর্যন্ত বাছাইয়ে কোনো পয়েন্ট পায়নি বাংলাদেশ। অন্যদিকে ওমানের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ২-১ গোলে হারা ভারত কাতারকে রুখে দিয়েছে তাদেরই মাঠে। দুই ম্যাচে সুনিল ছেত্রীদের পয়েন্ট ১। দুদলই মরিয়া হয়ে আছে পয়েন্টের জন্য। যেখানে বাংলাদেশ ড্র করতে পারলেও খুশি হবে, সেখানে ভারত জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না।

র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৩ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যখন কঠিন লড়াইয়ে নামবেন জামাল-মামুনুলরা, ততক্ষণে নিশ্চয়ই তাদের কানে পৌঁছে যাবে কিশোরীদের ম্যাচের ফল। ভালো কিছু হলে তা থেকে অনুপ্রাণিত না হওয়ার কিছু নেই। কিশোরীদের হাতে যদি শিরোপা ওঠে, কে জানে- সেই ফলের আনন্দরেণু হয়ত টগবগিয়ে দেবে বাংলাদেশের সিনিয়র দলকেও! একদিনে আসবে জোড়া সুখবর!

Bellow Post-Green View