চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এই লড়াইয়ে টিকাই একমাত্র অস্ত্র

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত একমাত্র কার্যকর অস্ত্র টিকা। এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ সেই অস্ত্রে করোনাকে কাবু করেছে। শুধু তাই নয়, লকডাউনের মতো কড়া পদক্ষেপ তুলে দিয়ে মানুষকে স্বাভাবিক জীবনেও ফিরিয়েছে। কোনো কোনো দেশ আবার সামাজিক দূরত্ববিধি এবং স্বাস্থ্যবিধির মতো কঠোর নিয়মগুলো মেনে চলা থেকে জনগণকে মুক্তি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য যার অন্যতম উদাহরণ।

বাস্তব সত্য হলো আমাদেরও সেই জায়গায় যেতে হবে। কেননা কঠোর লকডাউন বা বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ দিয়ে করোনাকে রুখে দেওযার বিলাসীতা আমাদের মতো দেশের নেই। তাইতো সরকার জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ের কঠিন চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে প্রচেষ্টা আছে গণটিকাকরণের গতি আনারও। তাই এ নিয়ে নানান সীমাবদ্ধতার পরও আবার নতুন উদ্যোগে টিকাকরণ শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সেই উদ্যোগে আরেকটি বড় ধাপের কথা আজ ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি জানিয়েছেন, চলতি মাসের ৭-১৪ আগস্টের মধ্যে অন্তত ১ কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে। মূলত সেই কর্মসূচির উদ্দেশ্যেই হবে উৎসবমুখর পরিবেশে কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রাম বা ওয়ার্ডের মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। তাতে যুক্ত হবে ১৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে সব মানুষ। তবে বয়স্কদের অগ্রাধিকার থাকবে।

বিজ্ঞাপন

কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার এই কর্মসূচিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে- তা হলো কেবলমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড সাথে থাকলেই একজন মানুষ টিকা নিতে পারবেন। যাদের পরিচয়পত্র নেই, তাদের জন্য বিকল্পও রাখা হচ্ছে।  এ জন্য অনলাইনে আগে থেকে নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। আগের এ পদ্ধতি বহু মানুষের কাছে ছিল ‘ঝামেলাপূর্ণ’। কেননা বহু মানুষের কাছে স্মার্টফোন না থাকায় রেজিষ্ট্রেশন করা, টিকাকার্ড ডাউনলোড এবং প্রিন্ট করার মতো বিষয় তাদের জন্য কঠিন।

আমরা জানি, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাকরণ শুরু করে সরকার। তখন ভারত থেকে আসা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হয় ৫৮ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে। কিন্তু ভারত চুক্তি অনুযায়ী টিকা না দেয়ায় এক পর্যায়ে ওই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে চীন, আমেরিকা ও জাপান থেকে পাওয়া টিকায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ জুলাই থেকে আবার শুরু হয়েছে টিকাকরণ।

আমরা মনে করি, মাঝে কিছুটা বাধাগ্রস্থ হলেও টিকাকরণে জোর দেওয়ায় অল্প সময়েই জনসংখ্যার বড় একটা অংশকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। আর এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, ‘যত টাকা লাগুক না কেন, টিকা কেনা হবে।’ এক্ষেত্রে মানুষ কোনো গুজবে কান না দিয়ে সচেতন হলে দ্রুতই করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।