চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এই করোনায় কেউ কারো নয়?

সারা দুনিয়ায় বহুমাত্রিক মানবিক সংকট তৈরি করেছে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে আমাদের দেশে কয়েকজন মানুষ মারা গিয়েছেন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে। তবে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ হয়েছেন ঘর বন্দী। তবে অত্যাবশ্যক কারণে কিংবা চিকিৎসার প্রয়জনে কেউ কেউ বের হচ্ছেন ঘরের বাইরে। এইরূপ বাস্তবতার মাঝেই কয়েকটি সংবাদ আমাদের মানসিকভাবে প্রচণ্ড আহত করেছে।

করোনার এই মহা সংকটে একটি নতুন প্রশ্ন আমাদের সামনে আসছে যে, করোনায় কি কেউ কারো নয়?

বিজ্ঞাপন

হ্যাঁ, বগুড়ার কাহালুর ঘটনাটি আমাদের বার বার বাকরুদ্ধ করে দিচ্ছে। জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত স্বামীকে বাঁচানোর জন্য স্ত্রী শুক্রবার রাতভর পাড়া-প্রতিবেশীর সহযোগিতা চেয়েছিল। কেউ করোনা আতঙ্কে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেননি! এমনকি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার হটলাইনে আকুতি জানিয়েও ওই নারী সে রাতে কোনো সাড়া পাননি! পরদিন সে বাড়িতে চিকিৎসক গিয়ে নিশ্চিত করেন যে, অসুস্থ ব্যক্তি আর বেঁচে নেই।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এখানেই শেষ নয়। আর একটি ঘটনা ওই বগুড়াতেই ঘটেছে। হ্যাঁ, গত শনিবার রাতে ঢাকা থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন শ্রমজীবী এক ব্যক্তি। কিন্তু পথে শ্বাসকষ্ট ও কাশি শুরু হলে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোববার ভোররাতে তাকে ট্রাক থেকে ফেলে যাওয়া হয় বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেও কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, ওই ব্যক্তির করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ প্রাথমিকভাবে দেখা যায়নি।’

এই দুটো ঘটনাই গণমাধ্যমে এসেছে বলে হয়ত আমরা এভাবে জানতে পেরেছি। কিন্তু এর বাইরেও করোনা কেন্দ্রিক আরো নানা অমানবিক ঘটনা ঘটছে। আত্মীয়-স্বজন কিংবা আপনজনদের ক্ষেত্রেও “কেউ কারো নয়” এর কিছু দৃশ্যপট আসে পাশে ফুটে উঠছে, যা মানবিক বিবেচনায় অনাকাঙ্ক্ষিত।

করোনাসর্বোপরি এটা অনস্বীকার্য যে, করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আমাদের প্রত্যেকেরই সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা কিংবা ব্যাক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে, আমরা এই গভীর সংকটে মানবিকতাকে দূরে ঠেলে ‘অচিন মানুষ’ হব। কারণ, আমরা চূড়ান্তভাবে এটাই বিশ্বাস করি যে মানুষা আর মানবিকতা একে অপরের পরিপূরক। তাই আমারা অবশ্যই মানবিকতার দৃষ্টান্ত দিয়েই করোনা দিনের সংকট কাটিয়ে উঠবো। অতঃপর আবার আমরা একসাথে সমস্বরে গাইবো…“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।”

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)