চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন: যুব রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা

রাজনীতিতে যুব শক্তির অংশগ্রহণের ইতিহাস সুদীর্ঘকালের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ ধরেই বাংলাদেশ। সেখানে যুব সমাজের ভূমিকা বিশাল।

বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে যুব সমাজই ছিলো অগ্রভাগে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে জাতির পিতা ভরসা করলেন যুব সমাজের ওপরই।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শত ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে একটু একটু করে গড়তে লাগলেন বঙ্গবন্ধু। বাহাত্তরে শেখ ফজলুল হক মণিকে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। দেশ গঠনে যখন যুব সমাজ এগিয়ে চলেছে তখনই আসলো চরম আঘাত। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে খুনি চক্র। প্রথমেই হত্যা করা হয় সেসময়ের যুব সমাজের আইকন শেখ ফজলুল হক মণি ও তার স্ত্রী শেখ আরজু মণিকে।

৭৫ এর পর মুখ থুবড়ে পড়লো বাংলাদেশ। দিশেহারা যুব সমাজ। সামরিক স্বৈরাচারের বুটের নিচে পিষ্ট গণতন্ত্র। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যুবশক্তিকে ভুল পথে নেয়ার চেষ্টা করে জিয়াউর রহমান। আবারো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে যুব সমাজ। এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্র সমাজের সাথে যুব সমাজও ছিলো মূল ভূমিকায়।

গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটেছে। এরশাদ পতনের তিন দশক পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এরমধ্যেই ঘটে গেছে ব্যাপক উন্নয়ন। মাথাপিছু আয় বাড়ছে, রেমিটেন্স বেড়েছে। এরকম নানা সূচকেই আছে সাফল্যের গল্প। সরকার যুব সমাজসহ দেশের মানুষের সামনে একটি লক্ষ্য ঠিক করেছে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়াই তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য। সেই জায়গাটিতেই এসে যায় যুব রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা।

২০৪১ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সব পর্যায়ে যুবাদের অংশগ্রহণের বিকল্প কোনো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক তৃতীয়াংশই যুব। আমরা প্রায়ই একটি শব্দবন্ধ উচ্চারিত হতে দেখছি ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’। দেশে বয়স্ক মানুষের তুলনায় কম বয়সী মানুষের সংখ্যা বেশি।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ কর্মক্ষম মানুষই বেশি। এই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ এর সুফলতো পেতে হবে। এখানে ভূমিকা রাখতে পারে যুব সংগঠনগুলো। আমাদের দেশে অনেকগুলো যুব রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে। সেই সংগঠনগুলো কি এসব নিয়ে ভাবছে? না ভাবলে এখনই ভাবার সময়।

আগেই বলেছি দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রহীনতার কারণে এদেশের যুব সমাজ হতাশায় ভুগেছে। এখনো যুব সমাজের একটি অংশ নেশাগ্রস্ত। অনেকেই বেকার। এঅবস্থায় মানবিক চেতনায় দীপ্ত যুবসমাজ গড়ে তোলা দরকার। শিক্ষার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে একটি দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তোলা দরকার। যুবকদের ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তি দরকার। তাহলেই সামগ্রিক উন্নয়নের পথ সুগম হবে। এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে যুবসংগঠনগুলো।

এখনই সময় ঘুরে দাঁড়ানোর। যে সময়টা চলে যাবে সেটা আর কখনোই পাবো না। বাংলাদেশের সামনে এখন বিরাট সুযোগ। যুব সমাজকে দক্ষ যোগ্য করে গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন। যে কাজটি করছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। এখানে যুব সংগঠনগুলোও যদি ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে তাহলে যুব জাগরণ ঘটবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়তে শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে যুব জাগরণ ঘটিয়েছিলেন।

জাতির পিতাকে আমরা হারিয়েছি। মাঝখানে অনেকটা বছর চলে গেছে। এতো বছর পরে এসে উন্নত দেশ হওয়ার সুযোগ আমাদের সামনে উকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় দরকার শক্তিশালী যুব রাজনীতি। দরকার শক্তিশালী যুব সংগঠন। যে সংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বেকারত্ব দুর করে, দারিদ্র্য বিমোচন করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দরকার যুব জাগরণ। শক্তিশালী যুব রাজনীতি ও যুব সংগঠনই পারে যুবসমাজকে প্রগতির পথে মানবিক ও নৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে। তাইতো উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে এই মুহূর্তে শক্তিশালী যুব রাজনীতি ভীষণ প্রাসঙ্গিক।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)