চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঈদের কেনাকাটায় কার্ডে লেনদেনকারীদের জন্য সুখবর

উৎসব আর কেনাকাটা একসূত্রে গাঁথা। কিন্তু উৎসবকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিলেও ব্যাংকগুলো চলছে উল্টোপথে। অর্থাৎ কেনাকাটায় গ্রাকদের সুযোগ দিচ্ছে। এমনকি ঈদ সামনে রেখে ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডে ৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত অফার দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংক।

এছাড়া মাস্টারকার্ড ও ভিসাকার্ডসহ বিভিন্ন ধরণের কার্ডের মাধ্যমে ইফতার থেকে শুরু করে ঈদের পোশাক কেনাকাটায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও পণ্যভেদে এই মূল্য ছাড় দেয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ব্যাংকের ব্যবসা বাড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হলো বিভিন্ন উৎসব। তাই সব ধরনের কার্ডে ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যদিও নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে দেশে এখনো পুরোপুরি কার্ড ব্যবহারের মতো পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। তবু উৎসবগুলোতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কার্ড ভিত্তিক লেনদেন বেড়ে যায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে রমজান মাসজুড়ে ঈদের কেনাকাটায় দেশের বিভিন্ন শোরুমে ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন ব্যাংক এশিয়ার কার্ডহোল্ডাররা।

এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার কার্ড বিভাগের প্রধান মো. সাইফুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, গ্রাহকরা সারা বছরই আমাদের সাথে লেনদেন করেন। এতে তাদের থেকে আমরা মুনাফা পাচ্ছি।

তিনি বলেন, উৎসবকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তাই অতিরিক্ত দামের কবল থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে কার্ডধারীদের এই সুযোগ দেয়া হয়। এতে ব্যাংকের প্রতি কাস্টমারদের আস্থা বাড়ে। তাছাড় এটাকে ব্যবসা বাড়ানোর একটি উদ্যোগও বলা যেতে পারে।

কয়েকটি তারকা হোটেল থেকে একটি ইফতার বা ডিনার প্যাক কিললে আরো একটি ফ্রি পাবেন এই ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারীরা। এমনকি শেষ ১৫ রমজানে ক্যাশ ব্যাক’র সুযোগও দেয়া হতে পারে বলে জানান ব্যাংক এশিয়ার এই কর্মকর্তা।

বাই ওয়ান গেট ওয়ান অর্থাৎ একটি কিনলে একটি ফ্রি। ইফতার ও রাতের খাবার একটি কিনলে সাথে একটি ফ্রি দেয়া হচ্ছে সিটি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারীদেরও। এছাড়া বিভিন্ন পোশাকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে ব্যাংকটি। দেশের ৪৫ শোরুম থেকে কেনাকাটায় এই সুবিধা পাবেন এই ব্যাংকের গ্রাহকেরা।

বিজ্ঞাপন

সিটি ব্যাংকের কার্ড বিভাগের প্রধান মো. মাসুদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বিভিন্ন উৎসবে সিটি ব্যাংক এই সুযোগ দেয়। সাধারণত খুচরা ক্রয়-বিক্রয়ে আমরা কার্ডের মাধ্যমে এই সুযোগ দেই। বিভিন্ন পোশাকে, তারকা মানের হোটেলে এবং লাইফস্টাইলজাতীয় পণ্যে এই অফার দেয়া হচ্ছে।

বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় উৎসবকেন্দ্রিক ছাড়ের কারণে কার্ডের লেনদেন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লি. (ইউসিবিএল) গ্রাহকদের কার্ডে লেনদেন করলে তিনটি ক্যাটাগরিতে সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

ইউসিবিএলের কার্ড বিভাগের প্রধান নেহাল এ হুদা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এবারের রমজানে দেশের ৯টি সুপার শপ ও বিপনন কেন্দ্রে ও ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ ছাড় পাবেন ইউসিবিএলের গ্রাহকরা। এছাড়া তারকা মানের হোটেলগুলোতে একটি ডিনার বা ইফতারি প্যাক কিনলে সাথে আরো একটি ফ্রি দেয়া হয়।

তিনি বলেন, এই মুহুর্তে ৫০ হাজার ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক রয়েছে আমাদের। উৎসবকেন্দ্রিক এই অফারগুলোতে সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাই ধারাবাহিকভাবেই এসব ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা।

লাইফস্টাইল পণ্য ও খাবার দাবারে বিভিন্ন অফারের ব্যবস্থা করেছে প্রাইম ব্যাংক। খাবার পণ্যে বাই ওয়ান গেট ওয়ানসহ ঈদের কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ডহোল্ডারদের জন্য থাকছে ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

এছাড়াও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আড়ং ও অ্যাপেক্সে কেনাকাটায় মিলছে ৩০ শতাংশ ছাড়। আগোরা, মীনাবাজার ও স্বপ্নতে কেনাকাটায় মিলছে ১২ শতাংশ ছাড়।

এনআরবি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আড়ংয়ে কেনাকাটায় মিলছে ২৬ শতাংশ ছাড়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটায় মিলছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। ব্র্যাক, ডাচ্‌–বাংলা, ইস্টার্ন, সাউথইস্ট ব্যাংকের গ্রাহকেরাও কার্ডে কেনাকাটায় পাচ্ছেন বিশেষ ছাড়।

বর্তমানে দেশে দেড় কোটির বেশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। যাতে গত ডিসেম্বরে লেনদেন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। সারা দেশে এটিএম বুথ রয়েছে ১০ হাজার ৩৫৫। কেনাকাটার জন্য পয়েন্ট অব সেলস রয়েছে ৪৫ হাজার ৮৯৬টি।