চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঈদযাত্রায় ডেঙ্গু যেন দেশব্যাপী না ছড়ায়

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নজর দিলেই দেখা যায়, সেখানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। এই ভিড় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তে রক্ত পরীক্ষার কিট সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে। সোমবারও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীতে এক শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বলতে গেলে মহামারী আকার ধারণ করেছে।

চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৮শ’ ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর ফলে বাড়তি ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলো।

বিজ্ঞাপন

এমন প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ অযথা আতঙ্কিত হয়ে ডেঙ্গু টেস্ট না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় প্রয়োজন। অকারণে চাপ বাড়ালে যারা সত্যিই খুব অসুস্থ তাদের সেবায় বিঘ্ন ঘটবে। এজন্য অযথা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টেস্ট করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের এই বক্তব্য যেমন যৌক্তিক, ঠিক একইভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মৃত্যুর হার কমিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এ কাজে তারা সম্মিলিতভাবে সফল হবেন বলেই আমাদের আশাবাদ।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি ঢাকার মতো ভয়াবহ নয়। তবে ডেঙ্গুর এই মৌসুমে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আক্রান্ত কয়েকজনের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ঈদযাত্রায় এখানেই মূলত শঙ্কা। এই শঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদে সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন মহাপরিচালক।

তিনি বলেন: জেলা হাসপাতালে ১০ লাখ এবং উপজেলা পর্যায়ে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া আছে ঈদে সারাদেশে ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো অনুমতির অপেক্ষায় না থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে তড়িৎ চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা অবশ্যই ভালো সিদ্ধান্ত। এখন এর যথাযথ বাস্তবায়ন হয় কি না তাও লক্ষ্য রাখতে হবে।

তবে সরকার যে এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে তা লক্ষ্য করা গেছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কথায়। তিনি ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের বাসে এবং টার্মিনালে মশানাশক ওষুধ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদে ঘরমুখী যাত্রার সময় বাস টার্মিনালগুলোতে এবং বাস থেকে কোনোভাবেই যাত্রীরা যেন এডিস মশার কামড়ের শিকার না হন সেজন্য দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিকে নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। এই নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন হলে ঢাকা থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা অনেকাংশেই কমে যাবে।

এর পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে। নাহলে এডিস মশার বিস্তার আরও বাড়তে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যও অমূলক নয়। এই দুর্যোগে সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে না আসলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিগগিরই ডেঙ্গু নির্মূল হবে বলে আমরা আশাবাদী।

Bellow Post-Green View