চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আহতদের দেখতে গিয়ে তোপের মুখে শোভন-রাব্বানী, উত্তেজনা

ফিরতে হলো ঢামেকের গেইট থেকে

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতদের ওপর হামলায় আহতদের দেখতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েছেন সংগঠনের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের তীব্র আপত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেইট থেকেই ফেরত আসতে হয় শোভন-রাব্বানীকে।

বিজ্ঞাপন

রাত পৌনে এগারটার দিকে ছাত্রলীগের শীর্ষ এ দু’নেতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে আহতদের দেখতে গেলে আহতদের সঙ্গে থাকা শতাধিক নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। প্রায় আধাঘণ্টা পদবঞ্চিতদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর আহতদের না দেখেই ফিরে যান শোভন-রাব্বানী।

এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টা-পাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। ‘মানবতার কথা বলে বোনদের উপর হামলা কেন, বিচার চাই বিচার চাই’, ‘বিবাহিতরা কমিটিতে কেন, মানি না মানবো না’, ‘রাজাকারপুত্র কমিটিতে কেন, মানি না মানবো না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’, ইত্যাদি স্লোগান দেয় পদবঞ্চিতরা।

এসময় সভাপতি-সাধারণ পক্ষের নেতাকর্মীরাও ‘বিদ্রোহীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও’ বলে পাল্টা স্লোগান দেয়।

জানা গেছে, শোভন-রাব্বানী মেডিকেলের গেইটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পথ রুদ্ধ করে দাঁড়ান রোকেয়া হলের সভাপতি ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি।

এ সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশে তিনি বলেন: রাজাকারপুত্র, বিবাহিত, অছাত্রদের কমিটিতে রেখেছেন, আমাদের মত ত্যাগীদের কেন মূল্যায়ন করেননি।

এ সময় রাব্বানী বলেন, সামনে মূল্যায়ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান বলেন: যাদের কমিটিতে রেখেছেন তারা কোন বিবেচনায় আমাদের চেয়ে যোগ্য।

শোভন-রব্বানী ঢাকা মেডিকেল কলেজে আহতদের দেখতে গেলে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়

শোভন উত্তরে বলেন: সব কিছু বিবেচনা করা হবে। আমরা আহতদের দেখতে আসছি।

এ সময় সাবেক কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু বলেন: ত্যাগী নেতাদের মারধর করে, কোন সিম্পেথি নেওয়ার জন্য এসেছেন। কোনো ভাবেই এই নাটক করতে দেওয়া হবে না।

পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হাসপাতালে না প্রবেশ করে চলে যান।

সোমবার সন্ধ্যার পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান না পাওয়া (পদবঞ্চিত) নেতাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এই হামলা থেকে বাদ যায়নি নারী নেত্রীরাও। কয়েকজন নেত্রীকে চেয়ার দিয়ে পেটানো হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢাকা বিশ্বববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের চালানো ওই হামলায় মারাত্মক আহত হন ছাত্রলীগ নেত্রী বি এম লিপি আক্তার, শ্রাবণী দিশা, শ্রাবণী শায়লা এবং তিলোত্তমা শিকদার। তাদের মধ্যে শ্রাবণী দিশার ভ্রু’র নিচে অন্তত ১৮টি সেলাই দিতে হয়েছে।