চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আল্লাহ, আমার জানটা তুমি ওগোরে দাও’

অগ্নিদগ্ধ ভবনের উপরতলা থেকে হাত নাড়ছিলেন একাধিক মানুষ। কিন্তু ধোঁয়া আর উত্তাপের কারণে সেখানে পৌঁছাতে পারছিলেন না ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। বারবার ব্যর্থ হওয়ার এ দৃশ্য সইতে পারলেন না মধ্যবয়স্ক এক নারী। দুই হাত উপরে তুলে চিৎকার করে বললেন, ‘আল্লাহ আমারে উঠায় নাও। আমার জানটা তুমি ওগোরে দাও!’

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে বনানীর ১৭ নম্বর সড়কের ১৯তলা এফআর ভবনে আগুন লাগে। ভবনের নবম তলায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা প্রত্যক্ষদর্শীদের কারও কারও। নীচ তলায় আগুন লাগায় বহুতল ভবনের অনেকেই আটকা পড়েন উপর তলাগুলোতে। আগুন কমে আসায় কাচ ভেঙে কাপড় নেড়ে জানাতে থাকেন উদ্ধারের আকুতি।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু থেমে থেমে কমা-বাড়া আগুনের হলকায় কাছে পৌঁছাতে পারছিলেন না উদ্ধারকর্মীরা। এমন দৃশ্য দেখে সেই মধ্যবয়স্ক নারী বারবার বলতে থাকেন, ‘ওরাও কারো পোলা-মাইয়া। আমারও আছে। আল্লাহ তুমি ওগোরে বাঁচাও। আমার বয়স হইয়া গেসে। আমারে উঠায় নাও।’

বিজ্ঞাপন

আটকে থাকা ব্যক্তিদের হাত নাড়া দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে চিৎকার করেছেন উপস্থিত হাজার হাজার প্রত্যক্ষদর্শী। উদ্ধারকর্মীরা কাছে পৌঁছাতে পারলে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন, ব্যর্থ হলে দিয়েছেন দুয়ো। কেউ উদ্ধার হলে কৃতজ্ঞ জানিয়েছেন সৃষ্টিকর্তাকে।

অগ্নিদগ্ধ ভবনের ঠিক উল্টো পাশে কামাল আতার্তুক এভিনিউতে আছে প্রাইম এশিয়া ও নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ভবন। আগুন এফআর টাওয়ারে না লেগে এ দুই ভবনের একটিতে লাগলে হতাহতের সংখ্যা বহু হতে পারত বলে জানান নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। ছাত্রদের বের হওয়ার জন্য জরুরী সিঁড়ি কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই বলেও খেদ প্রকাশ করেন তিনি। কামাল আতার্তুক এভিনিউয়ের প্রায় প্রতিটি ভবনে একাধিক রেস্টুরেন্ট-খাবারের দোকান থাকায় ভবিষ্যতে আবারও এরকম দুর্ঘটনা ঘটতে পারেও বলে শঙ্কা সেই শিক্ষার্থীর!

উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ নিয়েছেন সাধারণ জনগণ-ছাত্ররা। হাজার হাজার জনগণকে এড়িয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছেন তারা। সাধারণ মানুষের এমন অংশগ্রহণে উদ্ধারকাজ অনেকটাই সহজ হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

Bellow Post-Green View