চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আল্লামা শফীকে ‘হত্যা’, মামুনুল হকসহ আসামি ৩৬

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১ মাসের মধ্যে তাদেরকে তদন্ত কাজ শেষ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের জুডিশিয়ার ম্যাজিষ্ট্রেট শিবলু কুমার দে’র আদালতে শাহ আহমদ শফীর ছোট শ্যালক মো. মঈন উদ্দিন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বাদি মো. মঈনুদ্দিনের অভিযোগ, ‘মৃত্যুর কয়েকদিন আগে থেকে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর খাবার, ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা নেওয়া অ্যাম্বুলেন্সও বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া তাকে সরকারের দালাল বলে প্রতিনিয়ত প্রহার করা হয়েছে। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।

আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন এবং গৃহবন্দি করে নির্যাতনের মাধ্যমে ‘শাহাদাত’ বরণ করতে বাধ্য করা হয়েছে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে।’

বিজ্ঞাপন

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমৃত্যু আমীর ছিলেন শাহ আহমদ শফী। গত ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ১০৩ বছর বয়সে মারা যান।

তার দুই দিন আগে ১৬ সেপ্টেম্বর শফীর ছেলে আনাসকে চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতিসহ ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্ররা। তারা মাদ্রাসার সব কটি ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আনাসসহ কয়েকজন শিক্ষকের কক্ষ ভাঙচুর করে।

ছাত্রদের দাবির মুখে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মাদ্রাসাটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন আহমদ শফী। তার ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় শুরা কমিটি।

শাহ শফীর মৃত্যুর পর গত ১৫ নভেম্বর কাউন্সিল অধিবেশনে আহমদ শফীর কমিটিতে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জুনায়েদ বাবু নগরীকে আমীর নির্বাচিত করা হয়।

এই কমিটির নির্বাচিত মহাসচিব আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমীও গত ১৩ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।