চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আলেম-ওলামারা উগ্র জঙ্গিবাদের ভাষায় কথা বলছে: হানিফ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে আলেম-ওলামা-মাশায়েখরা উগ্র-জঙ্গিবাদীদের ভাষায় কথা বলছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। সেই সঙ্গে যারা আবারও ‘শাপলা চত্বর’র স্বপ্ন দেখছে তাদের অতীত স্মরণ করে লজ্জা পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

শনিবার ১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকার প্রথম মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

দেশে যখন কোন ইস্যু নেই ঠিক তখন আলেম-ওলামা-মাশায়েখদের নাম দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে হানিফ বলেন: আপনারা অপব্যাখ্যা দিয়ে হুজুগে মাঠ গরম করার কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন। আপনারা যে ভাষায় কথা বলছেন এটা আলেম-ওলামাদের ভাষা, ইসলামের ধারক বাহকদের ভাষা হতে পারে না। আপনারা উগ্র জঙ্গিবাদের কথাবার্তা বলছেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে আলেম-ওলামাদের হঠাৎ করে সন্ত্রাসী-উগ্রবাদীদের ভাষায় কথা বলা জনগণ বরদাস্ত করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এসময় বিষ্ময় প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন: আমি অবাক হয়ে যাই, এমন উগ্র-জঙ্গিবাদী কথা বলা আলেম-ওলামা-মাশায়েখরা নাকি ইসলামের ধারক ও বাহক, তারা নাকি কুরআন সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

যারা এমন উগ্র ভাবাদর্শ ছড়াচ্ছে তাদের স্মরণ করিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পৃথিবীতে ইসলাম হচ্ছে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম, ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। ইসলামে উগ্রবাদ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান নেই।

তারা যে ভাষায় কথা বলছে তা ইসলাম অনুমতি দেয় কিনা এমন প্রশ্ন রাখেন হানিফ। বলেন: আপনারা যে ভাষায় কথা বলছেন, এই ভাষা ইসলামের ভাষা নয়। এর কল্লাকাটা, এর মাথায় বাড়ি দেওয়া; নাম ধরে গালিগালাজ করা, এটা বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেবো-এ ধরনের উগ্র কথাবার্তা ইসলাম পারমিট করে না, এটা শান্তির ভাষা নয়।

যেসকল আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এ ধরনের কথা বলছেন তারা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ভাষায় কথা বলছেন মন্তব্য করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম জঙ্গি ধর্ম নয়।’ একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: আপনাদের কথাবার্তায় এত উগ্রতা, এত জঙ্গি মনোভাব যে তার মধ্যে কোন শান্তির চিহ্ন নেই।

এসময় তিনি বিশ্বের সব থেকে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ টেনে এনে বলেন: সৌদি আরব, ইরান, জর্ডান, মিশর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এমনকি বর্তমান যুগে সবথেকে বেশি ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী এবং বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত তুরস্কতেও ভাস্কর্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেই সকল দেশে যখন কেউ কথা বলছেনা, সেখানে জাতির পিতার ভাস্কর্য কেন হঠাৎ আলেম-ওলামাদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ালো জানতে চান তিনি।

কিছু ওলামা-মাশায়েখেরা বিতর্কিত ‘পাকিস্তান ইসলাম’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশে এজেন্ডা ভিত্তিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাকিস্তানের লাহোরে থাকা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর যে ভাস্কর্য রয়েছে সেটি দেখে মাঠ গরম করার পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কিছু সংখ্যক আলেম-ওলামাদের বক্তব্য এবং পুনরায় শাপলা চত্বরে যাওয়া সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে আওয়ামী লীগের এ প্রভাবশালী নেতা বলেন: আমি অবাক হয়ে যাই কয়েকদিন আগে শুনলাম, তাদের কয়েকজন নেতা বলছেন-প্রয়োজন হলে আবার শাপলা চত্বরে যাব! শাপলা চত্বর কী আপনাদের খুব একটা সফলতার প্রতীক হিসেবে আছে? লজ্জা থাকলে তো শাপলা চত্বরের কথা আপনাদের মুখে আসার কথা নয়।

তিনি আরও বলেন: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে এসেছিলেন। আপনাদের ধ্বংসযজ্ঞের পরও সরকার শান্ত ছিলো। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, সন্ধ্যার মধ্যে শাপলা চত্বর ত্যাগ করার জন্য। আশরাফ ভাইয়ের এই কথার প্রেক্ষিতে আপনারা বলেছিলেন, সৈয়দ আশরাফ আপনি কাল সকালে কোথা থেকে পালাবেন সেই চিন্তা করেন!

যোগ করেন: খুব গরম ভাষণ দিয়ে বলেছিলেন, আমরা শাপলা চত্বরে এসেছি রক্তের সাগরে বয়ে যাবে তাও আমাদের কেউ নাড়াতে পারবে না। কি হলো, দেশে দেশের জনগণ তো দেখলো মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে শিয়ালের মত লেজ গুটিয়ে দু’হাত তুলে পালিয়ে গেলেন। আপনার আবার বড় বড় হুমকি ধামকি দেন।

হানিফ বলেন: আমরা আবারও পরিষ্কার করে বলি, এটা স্বাধীন রাষ্ট্র- নয় মাস যুদ্ধ করে আমরা দেশকে স্বাধীন করেছি। গুটিকয়েক পাকিস্তানের প্রেতাত্মা রাজাকারদের হুমকি-ধামকি শোনার জন্য নয়। আপনাদের যদি স্মরণ থাকে ২০১৩ সালের ৫ মের কথা মাথায় রাখবেন। মাদ্রাসার ভিতর ৫-১০ হাজার ছাত্রছাত্রী নিয়ে মিটিং করে জিহাদী মনোভাব দেখে মনে করেন ওটাই বাংলাদেশ। আপনাদের অবস্থা কুয়োর মধ্যে ব্যাঙ লাফালাফির মতো, ওর কাছে ওটাই সমুদ্র। এটা সেটা নয়, এটা স্বাধীন দেশ।

তিনি সতর্ক করে বলেন: এখানে সরকার আছে, সরকারের শক্তি সম্বন্ধে জানতে হবে। এদেশের জনগণ আছে, জনগণ সম্পর্কে জানতে হবে। এদেশের জনগন আপনাদের এই গুটিকয়েক মাদ্রাসায় পড়ুয়াদের পেছনে হাঁটতে যাচ্ছে না। আপনাদের এই উগ্রবাদী-জঙ্গিবাদী কথাবার্তা জনগণ সমর্থন করে না।

আলেম-ওলামারা আমাদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র মন্তব্য আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন: সেই শ্রদ্ধা ধরে রাখা দায়িত্ব তাদের। এরকম উগ্রবাদী জঙ্গিবাদী কথাবার্তা বলে আপনারা শ্রদ্ধা ধরে রাখতে পারবেন না। জনগণ উগ্রবাদী জঙ্গিবাদীদের পছন্দ করেনা, জনগণ এদেশে শান্তি চায়।

ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফির সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, উপদপ্তর সম্পাদক রাসেলসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।