চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবারও শুরু হচ্ছে স্বাস্থ্য বুলেটিন

আগামী সপ্তাহ থেকে আবারও দেশের করোনা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য বুলেটিন শুরু করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘জনগণের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সরকারের নির্দেশনায় আবার স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রচার করা হবে। সপ্তাহে দুই দিন এটা করা হবে।’

যদিও কোন দুই দিন বুলেটিন প্রচার করা হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি।

মহাপরিচালক বলেন, স্বাস্থ্য বুলেটিনে করোনা বিষয়ে সাংবাদিকদের সার্বিক তথ্য জানার সুযোগ থাকছে।

এর আগে গত বছর ১১ আগস্ট বেলা আড়াইটায় নিয়মিত স্বাস্থ্য সংবাদ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিন বন্ধের ঘোষণা দেন।

বিজ্ঞাপন

ব্রিফিং না হলেও পরের দিন থেকে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তথ্য জানানো শুরু হয়।

কিছু গণমাধ্যমের সমালোচনা আমাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের মহামারিতে আমাদের চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কিছু কিছু গণমাধ্যমের সমালোচনা আমাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।’

স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, ‘করোনায় সাংবাদিকদের আমরা শুরু থেকেই সহযোদ্ধা হিসেবে দেখেছি। তারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে এই সময়েও কিছু কিছু মিডিয়া সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। আমরা যদি ভুল করে থাকি তাহলে সমালোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে কেউ যদি না জেনে, না বুঝে, বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে সমালোচনার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাহলে আমরা ঠিক থাকতে পারি না।’

ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এ অবস্থায় মানুষকে বিভ্রান্ত না করে, আমাদের মনোবল না ভেঙে, আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় কাজ করছি। আমাদের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তারপরও মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, আমাদের ভুল হতেই পারে। সেটা আমাদের ধরিয়ে দিলে আমরা শুধরে নিতে পারব। কিন্তু সমালোচনা না করে এ অবস্থায় আমাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’

বসুন্ধরার করোনা হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘বসুন্ধরার করোনা হাসপাতাল যে পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছিল, সেই অবস্থা পরবর্তী সময়ে না থাকায় আমরা সেটিকে উঠিয়ে নিয়েছি। সেখানকার সব যন্ত্রপাতি সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ছড়িয়ে দিয়েছি। একটি টিস্যু পেপার বক্স কোথায় দেওয়া হয়েছে, আমাদের কাছে সেই তালিকাও আছে। আপনারা চাইলে সেগুলো নিতে পারেন। বসুন্ধরার কোভিড হাসপাতাল পরিচালনা করতে প্রতি মাসে ৬০ লাখের বেশি টাকা খরচ হতো। কিন্তু রোগী ছিল মাত্র ১৫ থেকে ২০ জনের মতো। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক-নার্সসহ ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ জনবল ছিল। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মীসহ হাজারের অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কর্মরত ছিল। রোগী কম থাকায় হাসপাতালটি বন্ধ না করে এর ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওই অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়েই হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়েছি।’

স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘ডিএনসিসি করোনা হাসপাতাল নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সমালোচনা করা হয়েছে। খোঁজ না নিয়েই সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আমরা আগের স্থাপনা ব্যবহার না করে নতুন স্থাপনা ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের অর্থ ব্যয় করছি। কিন্তু আপনারা জানবেন যে, আগের যে স্থাপনা (ডিএনসিসির আইসোলেশন সেন্টার) সেখানে আমাদের ২০০ শয্যার আইসিইউ রয়েছে। নতুন করে ৯ তলায় আমরা আরও সাড়ে ৯০০ শয্যার বিছানা দিয়েছি। প্রতিটি বিছানায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাহলে এ হাসপাতালে ২০০ সহ আরও সাড়ে ৯০০ শয্যার যে হাসপাতাল তৈরি হয়েছে এটা কি আগের স্থাপনায় ব্যবস্থা করা যেত?’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের (এনসিডিসি) পরিচালক ও মিডিয়া সেলের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন, অধিদফতরের মুখপাত্র ও রোগতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম, অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকাদান) ডা. শামসুল হক।

বিজ্ঞাপন