চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবারও কি কিছু ঘটছে শেয়ারবাজারে?

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকে গত ১১ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিক পতন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা ক্ষোভ। টানা দরপতনের প্রতিবাদে মতিঝিলে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পুরনো ভবনের সামনে বিক্ষোভে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।

আজ সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১২০ পয়েন্ট। সূচক নেমে এসেছে ৭ হাজার পয়েন্টের নিচে; অবস্থান করছে ৬ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে। গত দুদিনে ডিএসইতে ডিএসইএক্স কমেছে ১৯০ পয়েন্ট। আর সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪০১ পয়েন্ট। গত ৫ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্স ৭ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক পার করেছিল।

প্রতিদিন শেয়ারবাজারে বড় দরপতনের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হাতিয়ে নেয়ার জন্যই তারা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে পতন ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের। এই চক্রটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তৎপর বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

যদিও শেয়ারবাজারে হুজুগে গা না ভাসিয়ে বিনিয়োগকারীদের কোম্পানি বিশ্লেষণ করে শেয়ার কেনার আহ্বান করে আসছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। আর গত ১৯ অক্টোবর শেয়ারবাজারে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকশেষে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, একটি মহল শেয়ারবাজারকে অস্থিতিশীল করার জন্য গুজব ছড়াচ্ছে। এই বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বলছেন, স্বাভাবিক নিয়মেই বাজার ওঠানামা করছে। চলতি এ দরপতনের কারণ বিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অন্ধকারে। নানাজন নানা মত দিচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত। ক্রমাগত দরপতনে এবং আরও দরপতনের ভয়ে তারা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছি।

পরিস্থিতি আর কারণ যাইহোক, বিনিয়োগকারীরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শেয়ারবাজারের সার্বিক বিষয়টি আমাদের ভাবাচ্ছে। শেয়ারবাজারের সংশ্লিষ্টরা বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য্য ধারার পরামর্শ দিলেও বিনিয়োগ চোখের সামনে প্রতিদিন হারিয়ে যেতে দেখলে ধৈর্য্য ধরা কঠিন। তারউপরে ৯০ দশকের শেষদিকে ও পরবর্তী সময়ে শেয়ারবাজার ধস-কারসাজির ক্ষত এখনও বিনিয়োগকারীদের মনে দগদগে ঘা এর মতো জ্বলছে।

শেয়ারবাজারে কোনো ধরণের অসঙ্গতি বর্তমানে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। দেশের ব্যাংকিং খাতের নানা ধরণের অস্থিরতা কাটিয়ে ও অনেক চড়াই উৎরাইয়ের পরে বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল। এই অবস্থা যেন শেয়ারবাজারে আবারও কোনো ধরণের অসঙ্গতির কারণে সমস্যায় না পড়ে। শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন মহল বর্তমান সময়ে বিষয়গুলো দেখছেন বলে আমাদের ধারণা। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারের দেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিজ্ঞাপন