চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবরার হত্যায় পরোক্ষভাবে জড়িত অমিত: পুলিশ

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডে আটক অমিত সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও এ ঘটনায় তার পরোক্ষ দায়-দায়িত্বের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তারা বলছে: তদন্ত, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অমিত সাহার সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন: অনেকগুলো ঘটনার সমষ্টিতে আবরার ফাহাদকে খুন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন: ঘটনাস্থলে হয়তো অমিত শাহ উপস্থিত ছিলেন না। প্রাথমিক তদন্তে আবরার হত্যায় তার প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ দায়-দায়িত্ব রয়েছে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তা উঠে এসেছে। সেই কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন: অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউ ঘটনাস্থলে থেকেও অপরাধ করতে পারে, আবার ঘটনাস্থলে না থেকেও করতে পারে। অনেক ঘটনাতে দেখা গেছে ঘটনাস্থলে না থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অমিতের ক্ষেত্রে তেমনই কিছু ঘটেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: হত্যাকাণ্ডের মোটিভ খুঁজে বের করাটা আমাদেরও তদন্তের মূল বিষয়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল সেটা আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ করার আগে আমরা মোটিভ সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমরা প্রাথমিকভাবে যা জেনেছি তা হলো অনেকগুলো ঘটনার সমষ্টি।

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন: এজাহার দায়েরের আগেই আমাদের পুলিশ সদস্যরা তৎপরতা শুরু করে। এ কারণে মামলার এজাহার দায়েরের আগে আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করতে সক্ষম হই়। এজাহার দায়েরের পরে আমরা আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। খুবই দ্রুততার সঙ্গে আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

টর্চার রুমে কার কী ভূমিকা ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন: এ বিষয়ে আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরই বলতে পারব। রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা একটা স্বচ্ছ ছবি নেওয়ার চেষ্টা করছি। পুরোপুরি পরিষ্কার তথ্য ও ছবি পেতে আমাদের আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। সেদিন কারা ছিল, কারা ছিল না তা যাচাই করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

‘যেহেতু মারধরের কোনো সুনির্দিষ্ট ছবি কিংবা ভিডিও নাই। এমনও হতে পারে অনেকে আশপাশের রুমের, যারা ঘটনা শুনে এসেছেন। আবার কেউ কেউ এমনও থাকতে পারেন যে, ছবিতে নেই কিন্তু ঘটনাস্থলে ছিলেন বা মারধরের সঙ্গে জড়িত।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইছে। তাদের দেয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্ত চলছে।’

শিবির সন্দেহে মারধর শুরু করা হয়েছিল কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন: আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি অনেকগুলো কারণের মধ্যে এটি একটি কারণ হতে পারে। এটিই একমাত্র কারণ কিনা তা এখনই বলা যাবে না।

ঘটনার দিন হলে উপস্থিত হওয়ার পর টহল পুলিশের কি কী ভূমিকা ছিল, জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন: হলের ভিতর কাউকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে এরকম কোনো তথ্য পুলিশের কাছে ছিল না। ইউনিভার্সিটিতে একটা রেওয়াজ রয়েছে, টহল পুলিশ অপেক্ষা করার পর ভেতর থেকে জানানো হয়েছে, ভেতরে কোন সমস্যা নেই।

‘ভেতরে নৃশংস ঘটনা ঘটছে এ বিষয়ে আমাদের জানা থাকলে ভেতরে ঢোকার মতো ক্যাপাসিটি ছিল কিনা সেটা বিষয় নয়। জানতে পারলে আমরা সকলেই সেখানে প্রবেশ করতাম। অতীতেও আমরা এভাবে ভেতরে প্রবেশ করছি।’

আবরার ফাহাদ নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মনিরুল ইসলাম বলেন: আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা জানলে হয়তো এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারতো না। আমরা যখন জেনেছি তখন কিন্তু মামলা দায়েরের আগেই ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের কোনো ঘাটতি ছিল না। ভিতরে একটা ঘটনা ঘটছে সেটা জানা থাকলে আমরা রেওয়াজ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের পারমিশন নেওয়ার অপেক্ষা করতাম না।

কোন মেসেজ পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন: প্রাথমিকভাবে জানা গেছে কেউ একজন পুলিশকে জানিয়েছে ভিতর একটি গোলমাল হচ্ছে। সেই মেসেজে টহল পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু হলের বাইরে থেকে ভেতরে কি হয়েছে তা বুঝা যায়নি। পুলিশের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন: ৩০-৪০ মিনিট পুলিশ অপেক্ষা করার পর ছাত্ররাই বলেছে ভিতরে কোন সমস্যা নেই।

Bellow Post-Green View