চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবদার একটাই, কাপ চাই

Nagod
Bkash July

উচিত ছিল বুধবার রাতেই জয়ের পর টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া। কিন্তু হাত চলেনি। থেমে গেছে সেই পুরনো আতঙ্কে। আবারও ফসকে যাবে না তো শিরোপা?

Reneta June

ফাইনালে বাংলাদেশ। অবিস্মরণীয় দুই জয়ে মুছে গেছে ভারত আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসহায় হারের স্মৃতি। এবার সব ধুয়ে-মুছে ফাইনালের স্বপ্ন সাজানোর সময়। পারবে তো বাঘেরা? পারতেই হবে। অন্য কিছুই চিন্তায় নেই। ষোলো কোটি স্বপ্ন ভাঙ্গতে দেবেন না কাণ্ডারি মাশরাফি। ওই শক্ত কাঁধেই ভর করে তো এতদিন দেখে এসেছি অবাধ্য সব স্বপ্ন!

১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। কেবল ক্রিকেট কি জিনিস তা শিখছি। যখন সমর্থনের প্রসঙ্গ এলো, তখন ছোট্ট আমি খুঁজেছিলাম আমাদের দেশকে। পাইনি। বাধ্য হয়েই সমর্থনের পাল্লাটা ঠেলে দিলাম ভিনদেশে। তখনকার দিনে বন্ধুদের আড্ডায় তর্কও হতো ভিনদেশী পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে।

সময় বদলায়। পরের বছরই। আইসিসি কাপের রুদ্ধশ্বাস জয় আমাদের নিয়ে যায় বিশ্বকাপের দরবারে। তখন আবার ডুয়াল সাপোর্ট সিস্টেম। প্রশ্ন হতো, “তুই বাংলাদেশের পর কোন দল করিস?”। এখন গর্ব করে বলি, “আগে-পিছে কিছু নেই। আমি লাল-সবুজের সমর্থক”

’৯৯ এর বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে আমরা কাঁপিয়েছিলাম বিশ্ব। মনে পড়ে? সে কথা মনে থাকলে বুঝবেন, কালকের জয়টা তো সে জয়েরই উত্তরসূরী। বাঘের ডেরার বুড়ো বাঘেরা অবসর নেয়। হয় জার্সি বদল। শুধু টিকে থাকে বাঘের হুংকার আর শিকারের আত্মবিশ্বাস।

কিন্তু এতো উল্লাস, আনন্দ আর সাফল্যের মাঝে ভয় ঢুকলো কেন? ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল। তখন টেলিভিশনের রিপোর্টার হিসেবে কাভার করছি ম্যাচ। সেদিন প্রেসবক্সে বসে অঝরে কেঁদেছি সবার সাথে। পোস্ট ম্যাচ সেশনে মুশফিকের গলা ধরে এসেছিল কষ্টে। এ অনুভূতি আর চাই না।

প্রতিপক্ষ ভারত। ভয়ের গল্পের দ্বিতীয় পৃষ্ঠাটা তারা লিখেছিল। এই তো সেদিন। নিদহাস ট্রফির ফাইনালে। শেষ বলে স্বপ্ন ভঙ্গের ব্যথাটা এখনো কমে নি। কে কাঁদেনি সেদিন? আর কাঁদতে চাই না আমরা। আর নয়। আমাদের নারীরা এখন এশিয়ার সেরা। তবে, মাশরাফি-মুশফিকরা নয় কেন? লক্ষ্য করুন, মন চাইলেও বলতে পারছি না সাকিব-তামিমের কথা। ইনজুরির চোখরাঙানি খাদে ফেলেছে আমাদের। তারপরেও কি থেমে আছি? এটাই তো বাঘের বৈশিষ্ট্য।

চাপে পড়ে ভেঙে পড়া, সম্মানজনক হার কিংবা একটুর জন্য হলো না… এ কথাগুলো মুছে ফেলার সময় আজই। মাশরাফির নেতৃত্ব, মুশফিকের চাপ সামলানো, রিয়াদের নীরব যুদ্ধ আর মুস্তাফিজের পেস শৈলী; জিততে আর কিছু লাগে নাকি?

প্রতিপক্ষ ভারত, র‍্যাঙ্কিং, ইনজুরি এসব বলবেন তো? ভুলে যাই চলুন। ফাইনালের দিনটা “আমাদের” হলেই দৌঁড়ে পালাবে সবকিছু। প্রিয় বাঘেরা, ভাঙা হাত নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়া তামিমের মন ভেঙো না তোমরা।
আমরা বাংলা মায়ের ১৬ কোটি অবুঝ শিশু। আমাদের আবদার একটাই। “কাপ চাই; কাপ।”

আর একটা কথা বলি? কাপ যদি নাও পাই, মন ভাঙবে সত্যি; কিন্তু টাইগারদের প্রতি অটুট সমর্থন থাকবে আমরণ।

শুভকামনা বাংলাদেশ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

BSH
Bellow Post-Green View