চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আপনি, আমি, আমরা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?

সব রয়ে গেছে কেবল ফেসবুকের ওয়ালে এপিটাফ হয়ে

যারা নিয়মিত রিকশায় যাতায়াত করেন, তারা সবাই জানেন, একেক সময় রিকশার ভাড়া একেক রকম। কোলে শিশু থাকলে এক রকম, নারী থাকলে অন্য রকম। বৃষ্টিতে এক ভাড়া, রিকশা যদি একটিই থাকে তাহলে অন্য রকম ভাড়া। ভাড়া মেটানোর জন্য পকেটে হাত দিলে চারিদিক থেকে সাহায্য প্রার্থনা ছুটে আসবে অন্তত এক ডজন হাত। যদিও এর মধ্যে প্রকৃত বিপদগ্রস্থ মানুষের হাত খুঁজে পাবেন না।

আপনি যদি বাজারে ঢোকেন তাহলে নিশ্চয় আপনার সবচেয়ে বেশী লক্ষ্য থাকবে পণ্যের দামের দিকে। এই সুযোগে ডিজিটাল ওজনের নামে আপনাকে ঠকতেই হবে। আপনি কোন দিকে খেয়াল রাখবেন? ওজন, দাম না হিসাব! ঠকতে আপনাকে হবেই। কখনো যদি ধরে ফেলেন দোকানদার এমনভাবে হাসবে যেন এটা কোনো অপরাধই না।

বিজ্ঞাপন

কোনো ভাবে আপনাকে জব্দ করতে না পারলে পঁচা খাবার ধরিয়ে দেবে। আর সেই খাবার খেয়ে আপনি যদি অসুস্থ হন তো কেল্লা ফতে। ডাক্তার কোনো মতে আপনার নাড়ি পরীক্ষা আর ব্লাডপ্রেশার মেপেই ছয় থেকে আটটি টেস্ট করতে পাঠাবেন। টেস্ট এর রিপোর্ট দেখে এই সব ছোটখাট চিকিৎসা কিন্তু গুগলের সহায়তায় এখন বাসায় করা যায়। যদিও রোগ পরীক্ষার নামে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন আর সিজার অপারেশনের বাড়তি আয় এখন বহু পুরোনো । নতুন হচ্ছে সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশু (প্রিটার্ম বেবি), কম ওজনের শিশু (লো বার্থ ওয়েট) আর লাইফ সাপোর্ট। এ নিয়ে থানায় গেলেন তো আপনি প্রাণে মরেছেন। প্যান্ট-শার্ট রেখে বাকী সব খুলে নেয়ার দায়িত্বটা থানার। আর প্যান্ট শার্ট খুলবেন উকিল সাহেব।

সারা জীবন কষ্ট করে একটি একটি টাকা জমাবেন ব্যাংকে? সেখানেও টাকা কাটছে। এই ভয়ে বাসায় রাখলে তো টাকার সাথে চোর-ডাকাতের হাতে প্রাণটাও খোয়াবেন। যা কিছু জমলো তাই নিয়ে জমি বা ফ্লাট কিনতে গেলে এক তুড়িতেই ফতুর। জীবনের অর্থেকটা সময় যাবে যানজটে। অথচ যেখানে সেখানে বাস ঘোরানো আর বাস, প্রাইভেট কার না রাখা হলে হয়তো আয়ুটা একটু বেশীই পেতাম আমরা। কিন্তু ট্রাফিক সিস্টেমের আয় আসতো কোথা থেকে? ক্লান্ত হয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যান, দেখবেন ওয়েটার বলছে, টিপস বাড়িয়ে দিন বিল কম হবে।

বিজ্ঞাপন

বিল প্রসঙ্গে মনে পড়লো বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি প্রতিটি বিলেই এখনো আন্ডার টেবিলে কাজ চলে। শুধু এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের কথা কেন বলবো? সব সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানেই তো একই অবস্থা। ডেথ সার্টিফিকেট নিতেও তো টাকা লাগে, তাই না?

পোশাক কিনবেন? এক দরের দোকানে চলছে দরাদরি। দুইশ’ টাকার পণ্যের দাম চাচ্ছে দুই হাজার। আপনি কতো কম বলবেন? বলুন? দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় একটি জায়গা নেই যেখানে আপনি প্রতারিত হচ্ছেন না কিংবা প্রতারিত হবার আশঙ্কা করছেন না।

এই সব কিছু দেখে আপনি যদি হতাশ হয়ে মসজিদে আশ্রয় নেন, দেখবেন মসজিদ কমিটির তামাশা। সেখানেও একই দশা। আপনি, আমি বা আমরা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো বলতে পারেন কেউ? আমরা যারা সৎ পথে জীবন যাপন করতে চাই। আমাদের যাদের ছোটবেলায় কচি মনে বসে গেছে মিথ্যা বলা মহাপাপ, আমরা কিভাবে কথা বলবো?

আমরা কি বোবা হয়ে মানসিক প্রতিবন্ধীর মতো জীবন যাপন করবো? কে শুধরাবে আমাদের? আমাদের তো অর্থের পাল্লায় চড়ে গেছে। অবশিষ্ট কিছুই নেই। আমাদের দেশপ্রেম আর ধর্মভীতি বা প্রীতি যা-ই বলি, তা তো রয়ে গেছে কেবল ফেসবুকের ওয়ালে এপিটাফ হয়ে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View