চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আদালত থেকে কারাগার: আওলাদের ঘটনা তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ

একের পর এক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে এক কারাগার থেকে অন্য কারাগার এবং এক আদালত থেকে আরেক আদালতে নেয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার আওলাদ হোসেনের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এছাড়া যাচাই সাপেক্ষে আওলাদকে জামিন দিতে শেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আওলাদ জামিন পেলে সে নিজে আর কারাগারে থাকলে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে আগামি ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে হাজির করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত তার আদেশে আওলাদের বিরুদ্ধে হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে রুলও জারি করেছেন। এবং রুল নিস্পত্তির আগে যাচাই বাছাই ছাড়া অন্য কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও এমাদুল হক বশির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

বিজ্ঞাপন

এ মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়: নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কক্সবাজারের এক মামলায় গত ৩০ অক্টোবর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার আওলাদকে আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেদিন আওলাদকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন চাওয়া হয়। তবে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আশুলিয়া) জামিন নামঞ্জুর করে নথিপত্র কক্সবাজারের আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর মামলার নথিপত্র কক্সবাজারের আদালতে পৌঁছার পর আবার আওলাদের জামিন চাওয়া হয়।

এরপর গত ১৩ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদেশে দিয়ে বলেন, ওই মামলায় আওলাদ নামে কোনো আসামি নেই। আর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্যু হয়নি। ওই পরোয়ানা সৃজন করা হয়েছে। তাকে (আওলাদ) মুক্তি দেওয়া হোক।

এরপর কক্সবাজারের আদালতের দেওয়া এই আদেশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। তবে এ আদেশ পৌঁছাবার পর ঢাকা কারাগার থেকে জানানো হয়, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে রাজশাহীর এক মামলায় (১৩৭/২০১৬) আওলাদকে রাজশাহীর আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর আওলাদকে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল গত ২৪ নভেম্বর আদেশ দিয়ে বলেন, ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এই ট্রাইব্যুনালের নয়, সার্বিক পর্যালোচনায় ওই মামলায় আওলাদ আসামি নন। তাকে অব্যাহতি ও মুক্তি দেওয়া হোক। এরপর ওই আদেশ রাজশাহীর কারাগারে পৌছায়। তবে তখন জানানো হয়, বাগেরহাটের একটি সিআর মামলায় (২৪৫/১৭) আওলাদকে বাগেরহাটে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে আওলাদকে বাগেরহাট আদালতে হাজির করা হলে আবার তার জামিন চাওয়া হয়।

গত ১ ডিসেম্বর বাগেরহাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়, হাজিরা পরোয়ানামূলে হাজির আওলাদ এই মামলায় আসামি নন। হাজিরা পরোয়ানাও এই আদালত কর্তৃক ইস্যু করা হয়নি। বিচারকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অস্তিত্বহীন স্মারক নম্বর ব্যবহার করে পরোয়ানাটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। আদালতের ওই আদেশ বাগেরহাট কারাগারে পৌঁছায়।

এরপর শেরপুরের একটি মামলায় (সিআর ১৫৯/১৮) আওলাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর গত ২ ডিসেম্বর থেকে আওলাদ শেরপুর কারাগারে আছেন। এরকম অদ্ভুত প্রেক্ষাপটে আওলাদের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন এবিষয়েটি নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আজ রুল সহ আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন