চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আত্মঘাতী হয়ে উঠছি আমরা?

‘নাড়ির টানে বাড়ির পানে-এই বাক্যটা আমাদের কাছে প্রতি ঈদের সময় শিরোনাম হয়ে ঘুরেফিরে আসে। আত্মীয়স্বজন, বিশেষ করে মা বাবা ছেলেমেয়েদের সাথে ঈদ করার জন্যে সবাই রাজধানী ছেড়ে মানুষ শিকড়ের কাছে ছুটে যায়।’

অনেক ঝক্কি ঝামেলা পোহাতেও হলেও সে কি তৃপ্তির হাসি দেখা যায় রেলস্টেশনে বা বাস টার্মিনালে টিকিট পাওয়ার পর। ভোর থেকে স্টেশনে দাড়িয়ে থেকে দুপুরবেলা টিকিট পাওয়ার পর এই হাসিই বলে দেয় আমরা আমাদের জীবিকার জন্যে রাজধানীতে এলেও মূলত শিকড়কেই ভালোবাসি। এটা চিরন্তন বিষয়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এবার? করোনা মহামারিতে পুরো বিশ্ব অচল। ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনীতি সবকিছুর চাকা বসে যাচ্ছে। বেকার হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ব্যাংক বীমাসহ অনেক কিছুই বন্ধ।

বিজ্ঞাপন

প্রথম দিকে কিছুটা ভয় দেখা গেলেও রোজা আসার পর থেকে তীব্র উদাসীনতা দেখা গেছে। বর্তমানে অঘোষিত লকডাউনে সীমিত আকারে সবকিছু চলছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলতে বলতে সরকারসহ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান মুখে ফেনা তুলে ফেললেও কে শোনে কার কথা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসেছে সেই চিরায়ত ভিড়ের দৃশ্য। মাওয়া ফেরীঘাট আর দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ফেরীঘাটের ভিড়। মানুষ যেন উম্মাদ হয়ে গেছে বাড়ি ফেরার জন্যে। কে জানে কে বয়ে নিয়ে চলেছে করোনাভাইরাস। প্রিয়তম মানুষের জন্যে নিজের অজান্তেই করোনা নিয়ে যাচ্ছে। ঈদ শেষে রাজধানীতে কেউ কেউ ফিরবে করোনা বহন করে।

বিজ্ঞাপন

এই সচেতনতাবোধটুকু কেন মানুষের ভেতরে তৈরি হচ্ছে না, বোধগম্য নয়। মানুষ তার ভালোমন্দটুকু বোঝার ক্ষমতা কি হারিয়ে ফেলছে? মানুষ কেন বুঝবে না তার দ্বারা অন্য আট দশ আক্রান্ত হতে পারে? অন্যের কাছাকাছি গিয়ে সেও আক্রান্ত হতে পারে। শুধু কি তাই? সীমিত আকারে ব্যাংকের লেনদেন চলছে। কিন্ত সেখানেও সামাজিক দূরত্ব মানছে না অনেক শিক্ষিত মানুষ।

পত্রিকা মারফত জানা গেল, যারা নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছুটছে তাদেরকে ঢাকায় ফেরানোর জন্যে পুলিশ চেষ্টা করে চলেছেন। বিষয়টা কেমন হাস্যকর বলে মনে হয়েছে। হাস্যকর এই অর্থে যে, মানুষকে বোঝাতে হবে-আপনি ঢাকায় থাকেন, সামাজিক দূরত্ব না মানলে আক্রান্ত হবেন। কিন্তু যে মানুষ ঘর ছেড়েছে নাড়ির কাছে ফেরার জন্যে। সে কি মানবে এই নীতিবাক্য?

আমাদের কোনো কিছুতেই কে যেন মনে হচ্ছে সিরিয়াসনেস নেই। আমজনতা থেকে শুরু করে সরকার, সবখানেই কেমন যেন ঢিলেঢালা ভাব। কেন খুব কড়াকড়িভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে নামানো হলো না শুরু থেকে। সেনাবাহিনীর ভেতরেও ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। হতে পারে বিষয়টা সংবেদনশীল, তাই কার্ফু দেয়া হয়নি।

শেষ পর্যন্ত কি আমরা কঠোর হতে পারবো? নাকি মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলবে। আমরা মেনে নেব। হাজার পেরিয়ে যাবে একদিন মৃত্যুর সংখ্যা। আমরা সব কিছু খুলে দেব। দোকানপাট শপিং মল থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লার হকারের ফুটপাত আবার মুখর হয়ে উঠবে।

আত্মঘাতী হয়ে উঠছি আমরা?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)