চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ প্রস্তাবে জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে তরুণেরা

ইন্টারনেটে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ প্রস্তাবে তরুণরা জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন: এখন যারা (জঙ্গি) গ্রেপ্তার হচ্ছে তারা কেউ কেউ আগে থেকেই ছিল। আবার কেউ কেউ নতুন করে র‌্যাডিকালাইজড হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

উগ্রবাদ নির্মূলে সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিসার্ফ) উদ্যোগে ‘ঢাকা পিস টক’ নামে একটি কর্মসূচী শুরুর বিষয়টি জানাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ কর্মসূচীতে সার্বিক সহযোগিতা করবে সিটিটিসি এবং অর্থায়ন করছে ইউএসএআইডি।

সম্প্রতি গ্রেপ্তার জঙ্গিদের বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, এদের মধ্যে কেউ আগে থেকে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে, কেউ নতুন করে জড়িয়েছে। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠির ইন্টারনেটে আকর্ষণীয় এবং চমকপ্রদ প্যাকেজ থেকে তরুণরা আকৃষ্ট হচ্ছেন। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম কম, দায়িত্ববোধ নেই, মতাদর্শে দুর্বল, যারা বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেনা এবং মানসিকভাবে দুর্বল তরুণরাই নতুন করে র‌্যাডিকালাইজড হচ্ছে।

‘ঢাকা পিস টক’ প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ হলেও বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিতে পড়েছে। সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী কার্যক্রম একটি লংটার্ম প্রসেস। উগ্রবাদ দমনে শুধু পুলিশই নয় পরিবার, সিভিল সোসাইটিসহ সকলের সম্মিলিত প্রয়াস থাকতে হবে।

সিটিটিসি উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করছে, মামলার তদন্ত করছে। পাশাপাশি উগ্রবাদে প্রিভেন্টিভ উদ্যোগ হিসেবে ঢাকা পিস টক কাজ করবে বলে জানান তিনি।

২৫-৩০ বছর বয়সী যুবকরাই উগ্রবাদে জড়িত হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, উগ্রবাদ একটি মতবাদ, এটিকে রুখতে পাল্টা মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি হিসেবে কাজ করবে।

ঢাকা পিস টকের মতো কার্যক্রম ঢাকার বাইরে শুরু করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা পিস টক নামে একটি প্রোগ্রাম ঢাকায় চালু হচ্ছে। ঢাকায় সফল হলে দেশের অন্য কোথাও চালুর চিন্তা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এ ধরনের কার্যক্রম আরো বেশি আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, হলি আর্টিজান পরবর্তী সময়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসবাদ কমে যাওয়ায় এ কার্যক্রম কমে গেছে। কিন্তু জঙ্গিবাদের ঝুঁকি কমে যায়নি, এটা রিয়াল থ্রেট। এখনো বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আরো সুসংহতভাবে কাজ করবে ঢাকা পিস টক।

সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাডভােকেসি এন্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিসার্ফ) প্রধান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শবনম আজিম বলেন, প্রথমে সমাজের ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের একটি প্যানেল তৈরি করা হবে। এরপর ১২টি ইস্যুতে অনুষ্ঠেয় সংলাপে অংশগ্রহণ করবেন অভিভাবক, শিক্ষক, বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সরকারি প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক এনজিও, থিংক ট্যাংক, নারী নেত্রী, সিভিল সােসাইটি সংগঠন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আদিবাসী গ্রুপ, তরুণসমাজ, লেখক, ব্লগারসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিরা।

যেসব বিষয় নিয়ে সেমিনারে আলোচনা হবে সেগুলাে হলাে: মতাদর্শিক সহিংসতা প্রতিরােধে পরিবার ও উন্নত অভিভাবকত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্যসূচি পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরােধ, তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে র‌্যাডিক্যালাইজেশন প্রতিরোধে জাতীয় নীতি প্রণয়ন, উগ্রবাদ প্রতিরোধে নারীর ভূমিকা, উগ্রবাদী জড়িতদের সামাজিক পুনর্বাসন, শান্তির পথে আন্তঃধর্ম সমন্বয়, উগ্রবাদের খবর
পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা, উগ্রবাদ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঝুঁকি প্রবণতা, আগামীতে করণীয় ইত্যাদি।

মােটকথা উগ্রবাদ বিষয়ে একটি সামগ্রিক বিশদ রূপরেখা নিয়ে এগােতে চায় সিসার্ফ। সমাজের সকল পক্ষের অন্তর্ভুক্ত একটি একমাত্র কৌশল। ঢাকা পিস টক এই লক্ষ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিসার্ফ একটি অলাভজনক থিংকট্যাংক, যেটি সামাজিক অ্যাডভোকেসি, গবেষণা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে থাকে। একদল গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দক্ষ সাংবাদিকের সমম্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি কৌশলগত চিন্তক, ও অ্যাকাডেমিকদের একটি প্ল্যাটফর্ম।

ঢাকা পিস টক সেরকমই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন অ্যাপ্রােচ তৈরির উদ্যোগ। এটি ইউএসএইড-এর অবিরােধ: রেডি টু টলারেন্স প্রােগ্রামের সহায়তায় বাস্তবায়ন করবে সেন্টার ফর সােশ্যাল অ্যাডভােকেসি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা সিসার্ফ।

আর এই যাত্রাপথের সার্বিক সহায়ক হবে কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

যে কারণগুলাে মানুষকে উগ্রবাদের পথে নিয়ে যায়, সিসার্ফ ‘ঢাকা পিস টকের মাধ্যমে সেগুলাে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি শুধু সমস্যা নির্ণয় নয়, এসবের সমাধানের পথও দেখাবে।

Bellow Post-Green View