চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের সম্মেলন: চলতি মাসেই সারাদেশে শীর্ষ নেতাদের সফর

আওয়ামী লীগের (২১তম) জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে সংগঠিত ও সুসংহত করার প্রত্যয় নিয়ে চলতি মাসেই দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলোতে সফর শুরু করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

লক্ষ্য পূরণে দেশের ৮টি বিভাগকে একক ধরে পৃথক কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। কমিটিগুলোতে রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য থেকে শুরু করে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিনিয়র নেতারা। যেখানে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের দুই বা ততোধিক কমিটিতে থেকে সমন্নয়কের ভূমিকা রাখতে দেখা যাবে।

বিজ্ঞাপন

সাংগঠনিক এ মহাযজ্ঞ তদারক করবেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। ওবায়দুল কাদেরর সুস্থ হয়ে ফিরে আসা এবং তার শারীরিক সক্ষমতা ফিরে না পাওয়ায় তিনিই এ দায়িত্বে থাকবেন।

জানা গেছে, এরইমধ্যে সফরের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। কিন্তু কে কোথায় দায়িত্ব পাচ্ছেন তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি দলটি। তবে নেতাদের মৌখিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০ তম জাতীয় সম্মেলন (ফাইল ছবি)
২০ তম জাতীয় সম্মেলন (ফাইল ছবি)

অন্যদিকে জাতীয় সম্মেলনের আগে খুব একটা সময়ও পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়টাকে সম্মেলনের জন্য সম্ভব্য সময় ধরা হয়েছে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এ সময়ের মধ্যে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে তৃণমূলের সকল মেয়াদোত্তীর্ণ (৪ থেকে ৫ বছরের অধিক সময়) কমিটিগুলোতে পুনরায় সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং সম্মেলনে আগত কাউন্সিলরদের তালিকা ঠিক করে নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

এজন্য সর্বোচ্চ একমাস বাড়িয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বেশি সময় নেতাদের দেওয়া হবে না বলে দলীয় সভাপতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমনই আভাস পাওয়া গেছে।

আগামী বছর (২০২০) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে সরকারের ‘মুজিব বর্ষ’ পালনের ঘোষণা এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মতো বৃহৎ রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচি রয়েছে। সব মিলিয়ে এর আগেই সংগঠনকে গুছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

ক্যালেন্ডারের পাতায় সম্মেলন হতে সাত মাস বাকি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় পাচ্ছেন না দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কেননা, রীতি মেনে শোকের মাস আগস্ট এবং রোজার মাসে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না আওয়ামী লীগ।

আবার মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাও পড়ে এ সময়ের মধ্যে। তাতে দলীয় সভাপতির নির্দেশনা মেনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সময় থাকবে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস।

বিজ্ঞাপন

এ সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করে আনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন দায়িত্ব প্রাপ্তরা।

নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ৮টি কমিটির মধ্যে ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক কাজে নেতৃত্ব দিবেন: সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মোজাফফর হোসেন পল্টু, কাজী জাফর উল্লাহ, সাহারা খাতুন, মুকুল বোস, আবদুল মান্নান খান, ডা. দীপু মনি, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড.আবদুস সোবহান গোলাপ, হাবিবুর রহমান সিরাজ, নুরুল মজিদ হুমায়ুন, আখতারুজ্জামান, ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা, মৃণাল কান্তি দাস, কামরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, সিমিন হোসেন রিমি এবং এবিএম রিয়াজুল কবির কাওসার।

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন
শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মতিন খসরু, মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা.দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম ডঃ হাসান মাহমুদ, এ কে এম এনামুল হক, শামীম ফরিদুন্নাহার, লাইলী সুজিত, রায় নন্দী, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুস সবুর, আমিনুল ইসলাম ব্যারিস্টার, বিপ্লব বড়ুয়া, দীপংকর তালুকদার, র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, হারুনুর রশিদ এবং অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু।

রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন
মোহাম্মদ নাসিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু এবং মেরিনা জাহান।

খুলনা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন
পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, আবদুর রহমান, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, এসএম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন এবং পারভীন জাহান কল্পনা।

ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন
আমির হোসেন আমু, ড. আবদুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ অসীম, কুমার উকিল, মোহাম্মদ আবদুছ সাত্তার এবং উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং।

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন
তোফায়েল আহমেদ, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাছিম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ড. শাম্মী আহমেদ এবং অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম।

রংপুর বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন
রমেশ চন্দ্র সেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিএম মোজাম্মেল, টিপু মুন্সী এবং এইচএন আশিকুর রহমান।

সিলেট বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন
আবুল মাল আবদুল মুহিত, নুরুল ইসলাম নাহিদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আহমদ হোসেন, বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান এবং অধ্যাপক রফিকুর রহমান। এ বিভাগে দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ থেকে আরও দুই-একজন সদস্য যোগ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

এছাড়া, বিভক্ত ঢাকার দুই সংগঠনিক অঞ্চল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের সম্মেলন সফলে সমন্নয়কের দায়িত্ব পালন করবেন ড. আবদুর রাজ্জাক এবং কর্ণেল (অব.) ফারুক খান।

Bellow Post-Green View