চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আইন, পুলিশ-র‌্যাবকে পাত্তা না দেয়া সেই ‘রায়হান ভাই’ গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসে করতেন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি। রোস্টিং আর ট্রলের অপদস্ত করা ছাড়াও কটাক্ষ করতেন দেশের প্রচলিত আইন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়েও। কোনো মামলা-মোকদ্দমার তোয়াক্কা করেন না, এমন দাবি করা সেই রায়হান আলম ওরফে রায়হান ভাই শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন র‌্যাবের হাতে।

তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বেশকিছুদিন ধরেই বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর নজরদারী চালানো হচ্ছিলো। অবশেষে টানা কয়েকদিনের চেষ্টায় রায়হানের অবস্থান নিশ্চিত হয়। সোমবার ভোরে শেওড়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-২)।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ করেই ভাইরাল হন ‘রায়হান ভাই’ ওরফে রায়হান আলমের কথা। ফেসবুকে লাইভে এসে ধূমপান, উগ্র আচরণ, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন জনের নামে অশালীন কথাবার্তা বলতেন ২৫ বছর বয়সের এই যুবক।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুক ভিত্তিক বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপে এ নিয়ে আলোচনা উঠলে বিষয়টি নজরে আসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার টিমের। এ বিষয়ে তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও থামেননি রায়হান।

উল্টো পুলিশ, র‌্যাব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন লাইভে এসে। হুমকি দেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোক্তাদেরও। সামাজিকভাবে তাদের হেয় করার কথাও জানান রায়হান।

সর্বশেষ গত রোববার লাইভে এসে রায়হান বলেন, ‘আরে মামলা কী জিনিস এইডাই আমার ডিকশনারিতে নাই। পুলিশ-র‌্যাব আমি ভয় পাই নাকি?’

বিজ্ঞাপন

শুধু এসবই নয় অভিযোগ আছে নারীদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করার মতো গুরুতর অপরাধের সাথে যুক্ত এই রায়হান।

জানা যায়, রায়হান রাজধানীর কোনো একটি কলেজে বিবিএস কোর্সে পড়াশোনা করেছেন। তবে এখন কিছুই করেন না। পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করতেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রায়হান বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে লাইভে এসে অশ্লিল অঙ্গভঙ্গি, নারীদের উত্তক্ত করা, নারীদের ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেলিংসহ নানা ধরনের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো। মধ্যরাতে লাইভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কটাক্ষসহ নানা ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া ছিলো রায়হানের নিয়মিত কার্যক্রম।

রায়হানের ব্যবহৃত মোবাইল ও কম্পিউটার থেকে বিপুল পরিমাণ ছবি, অশ্লিল ভিডিও, নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর চ্যাটের স্ক্রিনশট উদ্ধার করা হয়েছে। যা দিয়ে বিভিন্ন সময় নারীদের ব্ল্যাকমেলিং করেছেন এবং ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেলিংয়ের জন্য এসব সরবরাহ করা হয়।

র‌্যাব-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আপত্তিকর কনটেন্টের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রায়হানকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে র‌্যাব। টানা কয়েকদিনের চেষ্টায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শেওড়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা-মোকদ্দমার তোয়াক্কা না করা সেই রায়হানের বিরুদ্ধেই এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।