চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অঞ্জু বললেন, ‘বিসিবির অভিযোগ ভিত্তিহীন’

তার অধীনেই এসেছে স্বপ্নের এশিয়া কাপ শিরোপা। অন্যবারের তুলনায় সবশেষ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভালো করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ভারত, নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টিম টাইগ্রেস জাগিয়েছিল জয়ের আশা। তারপরও সালমা-রুমানাদের হেড কোচ অঞ্জু জৈনকে ধরে রাখেনি বিসিবি

মার্চে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতেই বাংলাদেশে কোচিং অধ্যায়ের ইতি টানতে হয়েছে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার অঞ্জুকে। ভেতরের খবর- দলের মধ্যে গ্রুপিং, একক সিদ্ধান্ত, স্বেচ্ছাচারিতা, এমনকিছু অভিযোগের কারণেই নাকি অঞ্জুর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি বিসিবি। সেসব উড়িয়ে দিয়ে অবশ্য ভারতীয় কোচ বলেছেন, বোর্ডের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

বিজ্ঞাপন

গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করে অঞ্জু চলে যান ভারতে। নিজ দেশের একটি রাজ্য দলের মেয়েদের কোচ হিসেবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানেও ডেপুটি হিসেবে পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ দেবিকা পালশিকরকে।

বিজ্ঞাপন

নতুন দায়িত্ব শুরুর আগে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাতকারে অঞ্জু জানালেন বাংলাদেশের মেয়েদের সঙ্গে দেড় বছর কাজের অভিজ্ঞতা। শোনালেন কিছু আক্ষেপের কথা। মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নয়নে বিসিবির কী করণীয় সেটিও বলেছেন সাবেক হয়ে যাওয়া সালমা-রুমানাদের কোচ।

নতুন জায়গায় কাজ শুরু করেছেন?
অঞ্জু: এখনো শুরু করিনি। চুক্তি বিষয়ক কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র মেয়েদের হেড কোচ হিসেবে জয়েন করতে যাচ্ছি। কিছুদিন পরেই কাজ শুরু করবো।

পরিসংখ্যান বলছে আপনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল কোচ। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে মেয়েরা। বিশ্বকাপ বাছাইসহ ৩৮ টি-টুয়েন্টির মধ্যে জয় ২২টিতে। তিন ওয়ানডের মধ্যে দুটিতে জয়। তারপরও বিসিবির সঙ্গে বিচ্ছেদ, এর পেছনে কী কারণ?
অঞ্জু: এটি আসলে বিসিবি ভালো বলতে পারবে। বিসিবিতে দায়িত্বে যারা আছেন সবাই আন্তরিকভাবে চান মেয়েদের দলের উন্নতি। আমার নামে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবটাই ভিত্তিহীন। ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একদমই অবান্তর। দলের পারফরম্যান্স যদি দেখেন মেয়েরা উন্নতির পথেই ছিল। ২০১৮ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের সঙ্গে যদি ২০২০ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের তুলনা করেন, তাহলেই স্পষ্ট হবে।

বিজ্ঞাপন

ব্রিসবেনে ওয়ার্মআপ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে শুরু করি। ভারত ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে একটা সময় যে অবস্থায় ছিলাম, আমাদের জয়ের পাল্লাই ভারী ছিল। অল্পের জন্য হয়নি। আমাদের গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ছিল। তাদের বিপক্ষে অতীতে খেলার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। তারপরও যতটুকু লড়েছে তা খুব খারাপ নয়। ঠিক সময়ে সবাই যদি সেরাটা দিতে পারত, আমরা দু-তিনটা ম্যাচ জিততেও পারতাম। তাহলে কোনো আক্ষেপই থাকত না। পরিসংখ্যান তো সেটি বলবে না। বলবে আগের আসরের মতোই শূন্য হাতে ফিরেছে মেয়েরা।

বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদকে আট নম্বরে নামতে দেখে সবাই বিস্মিত হয়েছিল।
অঞ্জু: পরিস্থিতির দাবিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। কিছু কিছু ম্যাচের ধরনই হয় এমন। হঠাৎ করেই ভিন্ন কিছু ভাবতে হয়। রুমানা ইনজুরি থেকে ফিরেছিল। ফিটনেসের দিক থেকেও খুব ভালো অবস্থায় ছিল না। নিগার সুলতানা সিঙ্গেলস খেলে যাচ্ছিল। অন্যপ্রান্ত থেকে বাউন্ডারি আসা প্রয়োজন ছিল। পিঞ্চ হিটিংয়ের জন্য ফাহিমা, জাহানারা নেমেছে। রুমানার অর্ডার নিচে নেমে গেছে। নিগার আউট হওয়ার পর সে নেমেছে।

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে আপনার প্রাপ্তি কোনটি?
অঞ্জু: এশিয়া কাপের ট্রফি নিয়ে আসা তো বিরাট ব্যাপার। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মেয়েরা। জয়ের অভ্যাস ভালোভাবেই তৈরি হয়েছে। সাহস বেড়েছে অনেক। বড় বড় দলও বাংলাদেশকে সমীহ করছে। বিশ্বকাপে দেখেছি অস্ট্রেলিয়ার মতো দলও বাংলাদেশকে নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছে। গুরুত্ব দিয়েছে। একটু এদিক-ওদিক হলে বাংলাদেশ যেকাউকে হারিয়ে দিতে পারে, এই ভাবনাটা ছিল সবার মধ্যেই। কেউই হালকাভাবে নেয়নি সালমা-রুমানাদের। বাংলাদেশের মেয়েরা বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে, এটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ কেমন দেখেন?
অঞ্জু: দলের সবাই পরিশ্রম করতে চায়। সফল হতে চায়। দলটির মাঝে ইতিবাচক অনেক ব্যাপারই রয়েছে। সঠিক গাইডলাইন পেলে এ দলটা অনেক উন্নতি করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাও হচ্ছে। সালমা-রুমানা-জাহানারাদের পাশাপাশি মুর্শিদা, নিগার, ফাহিমা এরাও পারফর্মার। দলটা আরেকটু ভারসাম্যপূর্ণ হলে আরও ভালো করবে।

কী করলে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে মেয়েরা?
অঞ্জু: আগামী এক-দুই বছরের পরিকল্পনা এখনই তৈরি করে ফেলা এবং ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে সেটি তুলে ফেলা। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি যদি আগে থেকে জানা না থাকে, আপনি কীভাবে পরিকল্পনা করবেন? যদি করেনও সেটি ফল দেবে না। অবশ্যই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। সব দেশই তা করে।

খেলার মাঝে যেন খুব বেশি গ্যাপ না চলে আসে, এটি নিশ্চিত করতে হবে। উন্নতির পথে এটি বড় অন্তরায়। বাংলাদেশের মেয়েদের সঙ্গে কাজ করেছি দেড় বছর। কিন্তু কোনো ক্যালেন্ডার পাইনি। যেটা ধরে পরিকল্পনা করব। আশা করি নতুন কোচ যিনি হবেন, তাকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না। সামনে কি কি খেলা আছে আগেই জেনে যাবেন। একজন কোচের একটি দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এক-দেড় বছর খুব অল্প সময়।