দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ৫৪৬তম দিনে ৬১ জনের মৃত্যুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৪৯৩ জন। গতকাল মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭০।
একদিনে মৃত্যুর হিসেবে এটি সর্বশেষ ৮০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ১৬ জুন করোনায় ৬০ জন মারা গিয়েছিলেন।
গত ৫ আগস্ট দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন রোগী মারা যায়। গত ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় (অ্যান্টিজেন টেস্টসহ) ১৭ হাজার ৭৫০টি পরীক্ষায় এক হাজার ৭৪৩ জন এই ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন। এই সময়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার নয় দশমিক ৮২ শতাংশ।
তবে শুরু থেকে মোট পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৯টি নমুনা। অর্থাৎ, মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৯০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫২টি নমুনা। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ১২ হাজার ২৬ জন। তাদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৪২১ জনসহ মোট ১৪ লাখ ৪৬ হাজার তিনজন সুস্থ হয়েছেন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৬১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারী। তাদের মধ্যে সবারই হাসপাতালে (সরকারিতে ৫৩ জন, বেসরকারিতে আটজন) মৃত্যু হয়েছে। তারাসহ মৃতের মোট সংখ্যা ২৬ হাজার ৪৯৩ জন। মোট শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এখন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন ২২ হাজার ৫৪৯ জন, যার শতকরা হার ৮৫ দশমিক ১১ শতাংশ। বেসরকারি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন তিন হাজার ১৫১ জন, যার শতকরা হার ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বাসায় ৭৬০ জন মারা গিয়েছেন, যার শতকরা হার দুই দশমিক ৮৭। এছাড়াও মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন ৩৩ জন, যার শতকরা হার দশমিক ১২ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ১৪৮ জন পুরুষ মারা গেছেন যা মোট মৃত্যুর ৬৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং নয় হাজার ৩৪৫ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন যা মোট মৃত্যুর ৩৫ দশমিক ২৭ শতাংশ।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৬১ জনের মধ্যে একুশ থেকে ত্রিশ বয়সী দু’জন, ত্রিশোর্ধ্ব ছয়জন, চল্লিশোর্ধ্ব সাতজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৪ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৪ জন, সত্তরোর্ধ্ব ১১ জন, আশি ঊর্ধ্ব পাঁচজন ও নব্বই ঊর্ধ্ব দু’জন ।
আর বিভাগওয়ারী হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন, খুলনা বিভাগে ছয়জন, বরিশাল বিভাগে দু’জন, সিলেট বিভাগে একজন ও রংপুর বিভাগে দু’জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন।
করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২২২টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২২ কোটি সাত লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৪৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৯ কোটি ৭৩ লাখের বেশি।







