২৫ বছর ধরে একটি ভ্রুণকে ফ্রিজে রাখার পর সফলভাবে একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মার্কিন নারী। ধারণা করা হচ্ছে এটিই বিশ্বের দীর্ঘতম সময় হিমায়িত করা মানবভ্রূণ।
জন্মের পর থেকে শিশুটির নাম ‘স্নোবেবি’ রাখা হলেও পরে তার নামকরণ করা হয় এমা রেন গিবসন।
১৯৯২ সালের অক্টোবরে ভ্রুণটি হিমায়িত রাখা হয়। সেই ভ্রুণ থেকেই টিনা গিসবনের গর্ভে ২৫ ডিসেম্বর জন্ম নেয় ‘স্নোবেবি’ এমা।জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ৬ পাউন্ড ৮ আউন্স। দৈর্ঘ্য ২০ ইঞ্চি।
ইস্ট টেনেসিরর বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী টিনা গিবসন বলেন, এত বছর ধরে ভ্রুণকে সংরক্ষণ করেছি দেখে তোমরা কি ধারণা করছ আমি ২৫ বছর বয়সী? তখন জন্ম হলে এই ভ্রুণ আর আমি সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে পারতাম। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম একটি সন্তান, বিশ্বরেকর্ডের কথা মাথায় ছিল না।’
এর আগে ২০ বছর হিমায়িত করা ভ্রূণ দিয়ে সফলভাবে সন্তান জন্মদানের ঘটনা আছে। তবে ২৫ বছর ধরে ভ্রুণ সংরক্ষনের ঘটনা এটাই প্রথম।
বেঞ্জামিন গিসবন এবং টিনা গিসবন দম্পতি বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার সময় স্বামীর সিস্টিক ফ্রিব্রোসিস রোগ ধরা পরে। শারীরিক এই ত্রুটির জন্য সন্তান জন্মদানে অক্ষম হন বেঞ্জামিন। সন্তান দত্তক নেওয়ার কথা থাকলে গিসবনের বাবা ভ্রুণ শিশুর কথা জানান। পরে এই দম্পতি তাতে আগ্রহী হন।
শারীরিক ও পারিবারিক নানা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর ৩০০ ভ্রূণের প্রফাইল থেকে তারা বেছে নেন এমাকে। আর এই চেষ্টায় খরচ পড়েছিল ১২ হাজার ৫০০ ডলার।
বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, গিবসনের জরায়ুতে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। সন্তান জন্মদানের আগে চিকিৎসক তাকে জানান, বিশ্বরেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন তিনি। ৎ
এ পদ্ধতি সফল হওয়ার পর বেঞ্জামিন গিসবন জানান, এমা আমাদের জীবনে একটা বিস্ময়কর ঘটনা। আমি মনে করি এত বছর সে হিমায়িত অবস্থায় থেকেও খুব সুন্দর হয়েছে দেখতে।
সূত্র: বিবিসি







