আগামী ২৮ মার্চ থেকে দেশে করোনা প্রতিরোধী গণভ্যাকসিন কার্যক্রমের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এই গণভ্যাকসিন কার্যক্রম আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু করে ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গণভ্যাকসিন কার্যক্রমে দুই কোটি ২৫ লাখ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত সপ্তাহে মৃত ব্যক্তিদের ৫৯.৬ শতাংশ ভ্যাকসিনের একটি ডোজও নেননি। এই এক সপ্তাহে মৃত ৫২ জনের মধ্যে টিকা নিয়েছিলেন মাত্র ২১ জন অর্থাৎ ৪০.৪ শতাংশ। এই ২১ জনের মধ্যে চারজন এক ডোজ, ১৬ জন দুই ডোজ এবং একজন তিন ডোজ নিয়েছিলেন। অবশিষ্ট ৩১ জনই টিকার কোনো ডোজ নেননি। এদের মধ্যে ২৯ জন ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও কিডনি রোগসহ কোনো না কোনো দুরারোগ্য অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া মৃত ৫২ জনের মধ্যে ৫২.২ শতাংশ ছিলেন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। এছাড়া ডায়াবেটিসে ৪১.৪ শতাংশ, বক্ষব্যাধিতে ২৪.১ শতাংশ, কিডনি ও নিউরোলজিক্যাল রোগে ১৩.৮ শতাংশ এবং ৬.৯ শতাংশ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। হৃদরোগ, গ্যাস্ট্রোলিভারজনিত, থাইরয়েড ও রিউম্যাটোলজিক্যাল (বাত জ্বর) রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৩.৪ শতাংশ।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অচিরেই পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে শিগগিরই। আমরা ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষার্থীদের ও টিকা কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তাদের অনুমোদন পাওয়া মাত্রই আমরা কার্যক্রম শুরু করে দেব।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৯৯৬ জনকে। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কোটি ৭০ লাখ ২৭ হাজার ৬১৭ জন টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে মোট ৮ কোটি ৬৮ লাখ ৪৪ হাজার ২১৮ জনকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা ছিল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে হার্ড ইউনিটি গড়ে তুলতে কমপক্ষে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। সেই হিসাবে প্রথম ডোজ দেওয়ার হার বাংলাদেশ শতভাগ অতিক্রম করেছে এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ ভাগ মানুষ।








