চ্যানেল আই হৃদয়ে লাল সবুজকে ধারণ করে। আর তাই প্রতি বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ সেজে উঠে লাল-সবুজের রঙে। এবছরেও বিজয়ের ৪৬ বছর পূর্তিতে ১৬ ডিসেম্বর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘দেশবন্ধু গ্রুপ-চ্যানেল আই বিজয় মেলা’২০১৭। এবারের বিজয় মেলায় সহযোগী পার্টনার হিসেবে থাকছে ইয়ামাহা ও নূর ইকো ব্রিকস। মেলার বিস্তারিত জানাতে চ্যানেল আই ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু, দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান, এসিআই মটরস লিমিটেড ইয়ামাহা এর ব্র্যান্ড ম্যানেজার মোঃ জাহিদুল ইসলাম, নুর ইকো ব্রিকস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শাহজাহান সিরাজ জুয়েল, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এবং মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
বক্তব্যে চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘বিজয় মেলার মাধ্যমে মানুষ ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দটুকু উপলব্ধি করে, অনুভব করে। সারা পৃথিবীর বাঙালির হৃদয়ে যে বাংলাদেশ রয়েছে, সেই বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি তারা দেখতে পায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। এই বিজয় মেলা শুধুমাত্র চ্যানেল আই-এর প্রাঙ্গণের বিজয় মেলা নয়, সারা পৃথিবীর বাঙালির বিজয় মেলা।’
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, প্রকৃতিপ্রেমী এবং ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ২৬ মার্চের পরের দুর্বিষহ দিনগুলোর পরে উত্তরণ হলো ১৬ ডিসেম্বর। আমরা হারিয়েছি অনেক বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের। যারা ত্যাগ স্বীকার করে দেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের সেই দেশটাকে ভালো রাখতেই এই উদযাপন। আমরা কী পেয়েছি, কী হারিয়েছি তা তরুণদের জানাতে হবে। যেই দেশের জন্য এত আত্মত্যাগ, সেই দেশটিকে যেন সবাই ভালোবাসি।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, এই দীর্ঘ সময়ে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের অস্ত্র হচ্ছে সাংস্কৃতিক আন্দোলন।’
প্রতিবারের মতো এবারও ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০.৩০-এ চ্যানেল আই চত্বরে মেলার উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত থাকবেন যুদ্ধাহত ও খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধারা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য, চ্যানেল আই’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। লাল সবুজ মঞ্চ, তোরণ এবং ফেস্টুন-এ সুসজ্জিত থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। মেলার স্টলে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের নানা দলিল, গ্রন্থমালা, আলোকচিত্র, মুক্তিযোদ্ধাদের ডায়েরি ও মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। এছাড়াও থাকছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সামগ্রীতে সজ্জিত স্টল। দেশ বরেণ্য চিত্রশিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ছবি আঁকবেন। শিশুদের জন্যও থাকছে ছবি আঁকার আয়োজন।
মেলায় সংগীত পরিবেশন করবেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধারা। এছাড়াও খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজদের গান থাকবে। পরিবেশিত হবে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়েদের নাচ। এবছরের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণের ত্রিমাত্রিক সংস্করণের পঞ্চমাতৃক প্রদর্শনীর আয়োজন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে চ্যানেল আইতে।







