প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেছেন, নীতি নৈতিকতার ঊর্ধ্বে কেউ না। একজন নাগরিক যেমন তার নাগরিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন, একজন সাংবাদিকও তার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতিসংঘ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমষ্টির আয়োজনে ‘সাংবাদিকতায় মানবাধিকার ও নীতি নৈতিকতা’ বিষয়ে গণমাধ্যম সংলাপ সঞ্চালনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নীতি নৈতিকতা বজায় রাখতে দায়িত্ববোধের জায়গাটা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক এ অধ্যাপক বলেন, ‘এখন পুঁজিঘন সাংবাদিকতা হচ্ছে। তারমানে এই না নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করতে হবে। নাগরিক অধিকারের জায়গা থেকে মানবাধিকারকে মর্যাদা দিতে হবে।’
শনিবার ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত মিডিয়া সংলাপ দেশের মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় উঠে আসে মানবাধিকার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতার নানা দিক।
শুরুতে এ বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্য, ভাবনা ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন পরিচালক মীর মাসরুর জামান।
আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মফিজুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকতায় এখন বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি নিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গণমাধ্যম আইন, ও নৈতিকতা পড়ানো হয়। তারপরও সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এর কারণ হলো, পুঁজিবাদী চরিত্রের কাছে গণমাধ্যম বন্দী।’
গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার সময় কাকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে সে দিকটা ভাবনায় রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, একটি পত্রিকায় প্রতিদিনকার দুর্ঘটনার চিত্র প্রকাশ হয়। একইভাবে প্রতিদিনকার নারী নির্যাতনের চিত্রও প্রকাশ করা উচিত।
এছাড়া অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে একটা ভালো খবরের সাথে অশ্লীল খবরও চলে আসে বিধায় এ ধরণের খবরে প্রকাশের ক্ষেত্রে নৈতিকতার দিকটা মাথায় রাখার পরামর্শ দেন। ওয়েজবোর্ডের শর্ত হিসেবে সরকারীভাবে লিখিত নীতিমালা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন নাসিমুন আরা।
চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন, ‘দায়িত্ববোধ আসে সংবেদনশীলতার জায়গা থেকে। সংবেদনশীলতার চর্চা করলে দায়িত্ববোধের জায়গা শক্ত হবে।’
সবাইকে সংবাদ সজ্ঞান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুত ও বেশি সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’
তবে ফেইক নিউজ যেন দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে নজর রাখতে সবার সংবাদ সজ্ঞান হওয়া দরকার বলে মনে করেন জাহিদ নেওয়াজ খান। এজন্য তিনি স্কুল পাঠ্যক্রমে সংবাদ সজ্ঞানতা বিষয়ক অধ্যায় যোগ করার পরামর্শ দেন।
দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাস গুপ্ত বলেন, বছরে পাঁচশ’র বেশি ছাত্র-ছাত্রী সাংবাদিকতায় স্নাতক শেষ করছেন। এদের বেশিরভাগই সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। সেই হিসাবে বলা যায় নীতি-নৈতিকতার বিষয়ে আমাদের জানা-বোঝার ঘাটতি নেই। এখন কেবল বিবেকের কাছে নিজেকে ছেড়ে দিতে হবে।

ঢাকা বাংলা চ্যানেলের সম্পাদক প্রণব সাহা বলেন, সাংবাদিকতা দায়িত্বশীল পেশা। অ-দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বলে কিছু নেই, তাহলে সেটা সাংবাদিকতা না। ফলে লিখিত নীতিমালা দিয়ে সাংবাদিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অনলাইনের প্রভাবে এই পেশার জবাবদিহিতা বেড়েছে। নিয়ম-নীতি মানার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত।
গণমাধ্যম সংলাপে আরো অংশ নেন একাত্তর টিভির বার্তা প্রধার সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ইউএনবি’র নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, সারাবাংলা.নেটের নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ মেনন খান, একুশে টিভির বার্তা সম্পাদক শেখ জাহিদুর রহমান, যুগান্তরের শূচি সৈয়দ, সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ ও মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ইউল্যাবের সাংবাদিকতার শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন খান এবং যমুনা টিভির সিনিয়র রিপোর্টার নাজমুল হোসেন।
তাদের আলোচনায় নির্ভয়ে সাংবাদিকতা, সাংবাদিক হত্যার বিচার, নীতিমালা প্রণয়ন, গেটকিপিং, সম্পাদকীয় নীতিমালাসহ নানা বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়ার কথা উঠে আসে।







