রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বিরোধী হরতালে পুলিশের দমনমূলক সংস্কৃতি প্রকাশের ছবিতে ভাসছে সামাজিক মাধ্যম। দেশের পুলিশ বাহিনীর উপনিবেশবাদী দমন-চিন্তার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে বয়োজ্যেষ্ঠ অ্যাক্টিভিস্ট, সংবাদকর্মী এবং ছাত্রকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার খবরে।
এই বাস্তবতায় ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাংবাদিক জাহিদ নেওয়াজ খান পুলিশের দমন-পীড়নের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং সহনশীলতার শুভবোধের উদয়ের আশা করেছেন।
অতীত জীবনের অভিজ্ঞতা এবং আজকের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি লিখেছেন: ‘এরশাদ আমলে অনেক হরতালে পিকেটিং করেছি। অনেককে রিকশা থেকে নামিয়ে দিয়েছি। এ শাহবাগেই গাড়ি চলতে দেইনি। হয়তো ঠিক করেছি, হয়তো ভুল। যদি ভুল করে থাকি আর প্রকৃতি তার বিচার করে সেই ভয়ে জামায়াত-শিবির ছাড়া অন্যদের হরতালে অফিস ভেহিক্যালের বাইরে অন্য যানবাহন ব্যবহার করি না।
যদি এরশাদ আমলে হরতাল করে ঠিকও করে থাকি তাহলেও আমি হরতাল সমর্থন করি না কারণ অনেক আগে থেকেই বুঝি যে এটা জবরদস্তির রাজনৈতিক কর্মসূচি। তারপরও বাংলাদেশে হরতাল নিষিদ্ধ কোন কর্মসূচি নয়। সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারের কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মানুষের হরতাল ডাকার অধিকার আছে।
এ হরতালে জনশৃঙ্খলাবিরোধী কিছু হলে পুলিশ তার জন্য দায়ীদের গ্রেফতার করতে পারে, আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু, একজন বয়স্ক মানুষকে রাস্তার উপর পিটিয়ে আধমরা করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে পারে না। এ কাজটা তারা করেছে প্রতিবাদ সহ্য না করার আদেশ ও সংস্কৃতি থেকে।
একইভাবে একজন সাংবাদিক পুলিশের শারীরিক অনিষ্টের কারণ না হলে পুলিশ সাংবাদিকের কর্তব্যকাজে বাধা দিতে পারে না। রাস্তায় বা পরে থানায় নিয়ে পেটানোর প্রশ্নই উঠে না। পুলিশ এ অন্যায়টা করেছে মারধর করে যে অন্যায় করেছিল সেটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য।
রামপাল নিয়ে সাদা চোখে বুঝি সুন্দরবনের ক্ষতি হবে। আবার এত বড় ক্ষতি হবে জেনেও সরকার এটা করছে তা বিশ্বাস করতে চাই না। দু’ পক্ষেরই যুক্তি আছে। আনু মুহাম্মদদের সমর্থন নেই বলে তাদের পক্ষে যুক্তি নেই তা বলা যাবে না। জনসমর্থন কম বলে তাদের প্রতিবাদের অধিকার নেই তাও মানি না।
আবার প্রতিবাদকারীদের অনেকে যে রোমান্টিসিজমে ভুগে সেটা যেমন ঠিক, তেমনি সরকার সমর্থকরা কিছু ছবি দিয়ে যেটা প্রমাণ করতে চান সেটার নাম হেফাজতি ধ্যান-ধারণা।
এতসব কথা বলার কোন প্রয়োজনই পড়তো না যদি না প্রতিবাদ না শুনতে শুনতে কিংবা প্রতিবাদ মেনে না নিতে নিতে পুলিশ যে সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, সে কারণে এরকম মাস্তানি করে একজন বয়েসী মানুষ, কিছু ছাত্রকর্মী আর দু’জন সাংবাদিককে পিটিয়ে হাসপাতালে না পাঠাতো।
সকলের সুমতি হোক।’









