একইদিনে দুটি আলোচিত মামলার রায় হয়েছে। রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় সাবেক এমপিপুত্র রনির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আর দৈনিক সমকালের ফরিদপুর ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ৯ আসামির মধ্যে ৫ আসামির সাজা বহাল রেখে ৪ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই মামলা ও মামলার আগের ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল।
নতুন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্ব নেবার পর থেকে দুর্নীতি দমন অভিযান চলছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন খাতে অব্যবস্থা ও জটিলতা দূর করার ঘোষণা এসেছে দায়িত্ব নেবার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে। বিভিন্ন খাতের মতো দেশের বিচার ব্যবস্থায় মামলা জট, বিচারহীনতাসহ বিভিন্ন অনিয়মে জর্জরিত। এই খাতেও যে ব্যাপক মনোযোগ জরুরি তা বেশি বলে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। অবকাঠামো ও জনবল সঙ্কটসহ নানা প্রতিকূলতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বিচারবিভাগ। সেইসঙ্গে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে নানা অপরাধ ও মামলার সংখ্যাও বাড়ছে।
বিচারের জন্য কোনো মামলা আদালতে আসার আগে তদন্ত-চার্জশিটসহ বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন অসঙ্গতি ও নেতিবাচক কিছু হলে, তাও বিচারের গতি ও ফলাফল অনেকসময় স্থবির করে দেয় নয়তো সঠিক বিচারের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সাগর-রুনি, তনুসহ নানা আলোচিত হত্যাকাণ্ডের কথা এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। বছরের পর বছর তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ আর হত্যার আলামত নষ্টের মাধ্যমে এসব ঘটনা হিমঘরে চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
‘বিচার সবার জন্য সমান’ বলে যে আলোচিত বক্তব্য প্রচলিত, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম দ্বিধা-দ্বিমত স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
নতুন সরকারের নতুন সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে আজ। ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান আর কঠোরতা সরকার দেখাচ্ছে, সেখানে দেশের বিচার ব্যবস্থার অসঙ্গতিগুলো যোগ করে বিচার বিভাগের সহায়ক ভূমিকা নেয়া দরকার বলে আমরা মনে করি। আশা করি সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।







