৫৭ ধারার অপব্যবহার এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এবার ছাগলের মৃত্যুর খবর ফেসবুকে শেয়ার করায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এমনকি এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন কালক্ষেপণ না করেই ছয় ঘণ্টার মধ্যে তাকে সোমবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত শনিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ডুমুরিয়ায় কয়েকজন দুস্থ ব্যক্তির মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করলে জুলফিকার আলী নামের একজনের পাওয়া ছাগলের মৃত্যুর খবর তিনি ফেসবুকে শেয়ার করে প্রতিমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছেন! তাই এই অভিযোগে অতি উৎসাহী হয়ে সুব্রত নামের একজন লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন।বিষয়টি দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বলে আমরা মনে করি। অবশ্য এর কয়েকদিন আগে ঢাবির এক শিক্ষক তারই এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করে আলোচনায় এসেছিলেন। এছাড়া বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারেক সালমনের বিরুদ্ধে একই ঘটনা ঘটেছে। যদিও সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে সাজুকে দল থেকে বহিস্কার এবং ইউএনওর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এর পাশাপাশি ইমতিয়াজ মাহমুদ নামের সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর নামেও তার ফেসবুক আইডিতে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে লেখালেখির কারণে মামলা হয়েছে। আমরা মনে করি, এই বিষয়গুলো সংবিধান প্রদত্ত বাক-স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরুপ। কেননা এসব বিষয় খুব সহজে মীমাংসা করার সুযোগ থাকলেও ৫৭ ধারার অপব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ব শত্রুতার জেরে এসব ঘটনা ঘটছে। এমনকি প্রতিনিয়ত এই ধারায় মামলার বিষয়গুলো রীতিমত হাস্যকর হয়ে উঠছে। সর্বশেষ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার এই ঘটনা তার সুস্পষ্ট উদাহরণ।রাজনীতিবিদরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন, তাই তাদের ভুল-ত্রুটির বিষয়ে সাধারণ মানুষের সমালোচনা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এখন এই ধারার কারণে তারা ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছেন। অথচ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ভূমিকার বদলে অন্য নামে ৫৭ ধারা পুনর্বহালের চেষ্টা আমরা লক্ষ্য করছি। এটা কোনভাবে কাম্য হতে পারে না। তাই আইনের নামে এই অসহিষ্ণুতার বন্ধ্যাত্ব থেকে বের হয়ে আসতে এসব কাজ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের আমরা আহ্বান জানাই। আমরা মনে করি, এর একটাই মাত্র উপায় আছে, তা হলো- ৫৭ ধারা বাতিল করা। অন্য কোন আইনের মাধ্যমে নতুন মোড়কে ৫৭ ধারা পুরনো বোতলে বাজারজাত করার চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্টদের এই ধারা বাতিল করতে হবে।








