পুলিশ দাবি করেছে, সাংবাদিক শফিক রেহমান রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িতদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করার উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে রিমান্ডকে ‘টর্চার’ সেল হিসেবে দাবি করে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন, রিমান্ডে
নির্যাতনের কারণে তিনি এরকম কিছু বলে থাকলেও এটা কোনো স্বীকারোক্তি না। রিমান্ড শেষে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কী জবানবন্দি দেন আইনের চোখে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
‘সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গোয়েন্দারা তাদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এখন তারা কীরকম আচরণ করছেন এবং ওই আচরণের প্রেক্ষাপটে তিনি কী বলেছেন তা আমরা কীভাবে জানবো!’ উল্লেখ করে তিনি বলেন: টর্চার করে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করা হলে আইনের চোখে তার কোনো মূল্য নেই। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার যে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন সেটাই হবে তার স্বীকারোক্তি।
রিমান্ডে থাকা অবস্থায় একজন অভিযুক্তের সাধারণভাবে তার আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কোনো সুযোগ নেই।
‘তাই আমাদের পক্ষে তার বক্তব্য যেমন জানা সম্ভব না তেমনি তার পক্ষেও আমাদেরকে কোনো কিছু জানানো সম্ভব না। এখন পুলিশ তাদের মতো বক্তব্য দিচ্ছে, শফিক রেহমান সাহেব নিশ্চয়ই রিমান্ড শেষে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তার বক্তব্য তুলে ধরবেন,’ বলে মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
শফিক রেহমানের গোপন বৈঠকে উপস্থিত থাকার স্বীকারোক্তির কথা জানানোর পাশাপাশি তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ব্যক্তিগত ল্যাপটপ এবং কিছু দলিল-দস্তাবেজ জব্দ করার কথাও জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এর অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
‘শফিক রেহমানের দেওয়া কিছু তথ্য যাচাই করতে ল্যাপটপসহ দলিল-দস্তাবেজ জব্দ করা হয়,’ বলে জানান তিনি।
গোয়েন্দা পুলিশের পাঁচ দিনের রিমান্ডে তিনি আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন অতিরিক্ত কমিশনার। তিনি জানান, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শফিক রেহমানের ইস্কাটনের বাসভবনে তল্লাশী চালিয়ে একটি ল্যাপটপসহ কিছু দলিল দস্তাবেজ উদ্ধার করেছে ডিবি।
মনিরুল ইসলাম জানান, শফিক রেহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিল তার রিমান্ড শুনানি হবে। মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
বিদেশী আরো একজনের জড়িত থাকার যে কথা বলা হচ্ছে তিনি কি তারেক রহমান কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মনিরুল ইসলাম জানান, তারেক রহমানের জড়িত থাকা না থাকার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের গোয়েন্দা দল তদন্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে ডিবি।







