যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের হামলাকারী স্টিভেন প্যাডক যদি একজন মুসলিম হতো, যদি সে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে হামলা শুরু করতো, যদি তার এক হাতে কোরআন এবং অন্য হাতে অটোমেটিক রাইফেলসহ ছবি থাকতো, তাহলে… তাহলে কী হতো?
উপরের ঘটনাগুলোর সবকিছুই যদি হতো তাহলে মার্কিনিরা আর বলত না যে, ভুক্তভোগীদের অসম্মান করবেন না, বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক রঙ’ দেবেন না। তারা এটাও বলত না যে, প্রতিরোধক ও প্রতিকার সম্পর্কে কথা বলার মাধ্যমে প্যাডকের মত গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। তারা আরও বলত, না, না, না। আমরা এটা মানতে পারি না।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ এর পরে ঘটা সবচেয়ে বড় ঘটনার জন্য তারা কংগ্রেসে এ নিয়ে একটি শুনানিতে বসত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় টুইট করে বলতেন, ‘আমি সবসময় এটাই বলছি’। যেমনটা তিনি ইউরোপের বিভিন্ন ঘটনায় করেছেন এবং মুহূর্তে সেটা রাজনৈতিক রূপ দিয়েছেন।
এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য দ্রুত তারা একটি কমিটি গঠন করত। তারপর তারা হামলাকারীর জন্মস্থানের বিরুদ্ধে ‘সব বিকল্পের ঝাঁকুনি’ দিত। কিন্তু হামলাকারীর আসল দেশ যখন স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র তখন কী হবে? এক্ষেত্রে হত্যাকারী শুধুমাত্র একজন বিশৃঙ্খল আমেরিকান। সে সামরিক স্টাইলের অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা সে বৈধ প্রক্রিয়ায় এবং সহজে কিনেছিল।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘটল তাও স্বাভাবিক। এ ঘটনা যে তেমন কোন বড় ঘটনা নয় তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট এবং তার রিপাবলিকান পার্টি পুরোপুরি নিস্ক্রিয় থাকল। তারপর তারা জোরাজুরি করে বলতে শুরু করে, এর প্রতিটি ইস্যু সন্ত্রাসী হামলার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। তাই ঘটনাটিকে ‘রাজনীতিকরণ’ করা উচিত হবে না।
আরেকটু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এরপরও যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় তাদের যুদ্ধ অব্যাহত রাখবে। তারা সেখানে বি-৫২, ক্রুজ মিসাইল, এফ-১৫এস, এফ-২২এস, এফ-৩৫এস এবং ইউ-২এস স্থাপন করবে। তারা তাদের তরুণদের বলবে, শেষ সন্ত্রাসীকে হত্যা বা ধরার জন্য চূড়ান্ত বলিদান দিতে হবে।
আইএসকে হারাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাদের সর্বস্ব ঢেলে দিচ্ছেন। কিন্তু মার্কিন মুল্লুকে বন্দুক নিয়ন্ত্রণের আইন করার ক্ষেত্রে তারা রীতিমত উদাসীন। প্যাডকের হামলায় কতজন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন সেটা যেন কোন বিষয় না।
এই ইস্যুতে বন্দুক সহিংসতা কমানোর জন্য কোন গুরুতর নীতি-ব্যবস্থার আলোচনা করার মত সময়ও মার্কিনিরা পাবে না বা করবে না। কারণ বিদেশে যুদ্ধ করতে গিয়ে মার্কিন প্রশাসন যতটা ঘুম হারাম করতে পারে, ঘরের সন্ত্রাসী ও নিজেদের অপরাধের ব্যাপারে তারা ততটাই অন্ধ।
নিউইয়র্ক টাইমসে টমাস এল ফ্রিডম্যানের লেখার চুম্বকাংশ








