রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে এবার খোলা চিঠি দিয়েছেন ভারতের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। খোলা চিঠিতে চলমান রোহিঙ্গা সংকটে সবাইকে আরো ভালোভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনের কথা বলেন তারা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পাঠানো খোলা চিঠিটি নিচে তুলে ধরা হলো:
বিগত দুই মাসে অন্তত ছয় লাখ রোহিঙ্গা নির্যাতন, ধর্ষণ ও বাড়িঘর ধ্বংসের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তারা এখন শুধু নিরাপত্তা চাইছে। রুয়ান্ডায় কি হয়েছিলো মনে আছে? এখন নজর দিন মিয়ানমারের দিকে।
পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত সংখ্যালঘুর নাম রোহিঙ্গা। তারা প্রধানত মুসলিম নৃগোষ্ঠী। এবং মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বছরের পর বছর বসবাস করা সত্ত্বেও তারা কখনোই নাগরিকত্ব পায়নি। বছরের পর বছর তাদের চলাফেরায়ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদার কোনো সুযোগ তাদের নেই।
জাতিসংঘের মতে, বিদ্রোহ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নামে রোহিঙ্গারা পাঠ্যপুস্তকে লিখিত জাতিগত নিধনের শিকার হচ্ছে। গত ২৫ অাগস্ট থেকে মিয়ানমারে থাকা রোহিঙ্গাদের অর্ধেককে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়। যেটা এই দশকের সবচেয়ে বড় দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার ঘটনা।
বাংলাদেশ তাদের বর্ডার খুলে দিয়েছে এবং যা করা সম্ভব তাই করছে। বাংলাদেশও একটি জনবহুল দেশ। সেই সঙ্গে তারা দারিদ্রতা এবং ক্লাইমেট চেঞ্জের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তবে রোহিঙ্গা সমস্যায় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ঠিক ততটা পাওয়া যাচ্ছে না, যতটা দরকার। জাতিসংঘও ফান্ডের জন্য কথা বলে যাচ্ছে আর বিশ্বনেতারা মিয়ানমার সরকারের উপর পর্যাপ্ত চাপ প্রয়োগ করছে না।
মিয়ানমার এখন আর দক্ষিণ অঞ্চলের নিচু জাতি নয়। সেখানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে এবং বিগত কয়েক বছরে সেখানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে প্রচুর পরিমাণে।
এই অঞ্চলে যেসব কর্পোরেশন বিনিয়োগ করেছে তাদেরও মুখ খোলা উচিত। সেখানে মানবাধিকার নিশ্চিত না হলে তারাও সেটার ভাগীদার হবে।
আগামী শুক্রবার আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নেবেন বিশ্বনেতারা। কিন্তু কোথাও আলোচ্যসূচীতে রোহিঙ্গা সমস্যা নেই। আমি নেতাদের আহ্বান জানাবো মিয়ানমারের উপরে চাপ তৈরি করার জন্য, যেন এসব নৃশংসতা বন্ধ হয়, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং তাদের সেই জায়গায় ফেরত যেতে দেওয়া হয় যেটাকে তারা তাদের বাড়ি মনে করে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর জাতিসংঘের আবেদনে সাড়া দিয়ে ফান্ডিং করা দরকার এবং খাবার পানি ও আশ্রয়ের মৌলিক অধিকার ছাড়া ট্রমার শিকার শিশুগুলোর জন্য ফান্ডিং গ্যাপ দূর করা প্রয়োজন। সবশেষে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় তাদের কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এই গণহত্যায় আমরা নীরব থাকতে পারি না। মানুষকে যখন হত্যা করে এবং পুড়িয়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে সেটা সারা বিশ্ব বসে বসে দেখতে পারে না। আরো একবার নৃশংসতার আগেই আমাদের বলতে হবে: ‘আর নয়’। এবং সেটা নিশ্চিত করে।
এই খোলা চিঠিতে সই করেছেন সালমাল রুশদি, কিরন দেশাই, মধুর জাফরি, রানা দাশ, আজিজ আনসারী, বিক্রম গান্ধি, নীলম গীল, ফ্রিদা পিন্টো, স্মৃতি মুনধারাসহ আরো অনেকে।








