রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই বিশ্বনেতারা মিয়ানমারের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও প্রতিবেশি দুই দেশ ভারত এবং চীনের প্রশ্রয় পেয়েছে গণহত্যাকারী বর্মি জেনারেলরা। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বিষয়টি দুঃখজনক হলেও এটাই ছিল সত্য। তবে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, ভারত এবং চীনের নীতি পরিবর্তনের কারণে।
শুক্রবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠককালে চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রী ঝাও কেঝি জানিয়েছেন: ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত নিতে বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে চীন।’ একইদিন কক্সবাজারে একটি মতবিনিময় সভায় এমন সুরে কথা বলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা।
ভারতীয় হাই কমিশনার বলেছেন: ‘মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সুষ্ঠু ও টেকসইমূলক প্রত্যাবাসন চায় ভারত। এ লক্ষ্যে ভারত সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে রাখাইনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের জন্য কাজ করছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য ভারত সরকার গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে।’
চীন এবং ভারতের এই নীতিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের জন্য উড়ে এসে জুড়ে বসা সমস্যা না, এ অঞ্চলের পরিস্থিতিও অস্থিতিশীল করে তুলছে। মানবিক এই সংকট সমাধানের বদলে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হলে চীন-ভারত এবং পুরো দক্ষিণ এশীয়া অঞ্চলসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতিকেই অস্থিতিশীল করে তুলবে। সুতরাং প্রতিবেশি দুই দেশ এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো ভূমিকা রেখে সংকট সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি।
দেরিতে হলেও শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় চীন এবং ভারতকে আমরা অভিনন্দন জানাই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তাদের ভূমিকা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবেও দৃশ্যমান হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা বরাবরের মতো আবারও বলতে চাই, সংকটের মূল যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানের পথও মিয়ানমারকেই বের করতে হবে।
এই মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের সুষ্ঠু ও টেকসইমূলক প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র সমাধান। চীন এবং ভারতের মানবিক ভূমিকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে আবারও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের। এক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে আরও সফলভাবে এগিয়ে যেতে সংশ্লিষ্টদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।








