জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়টি তদন্তে আইনী অধিকার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যুদ্ধাপরাধ আদালতের কৌঁসুলি ফাতাও বেনসুউদা।
মিয়ানমারে সংগঠিত ওই নিধনকে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসাবে অভিহিত করে সোমবার এই আবেদন করেন।
রয়টার্স জানায়, আদালত নির্দেশনা দিলে লাখ লাখ রোহিঙ্গার ওপর নির্যাতনের তদন্ত ও বিচারের কাজ সহজ হবে। যদিও মিয়ানমার সহায়তা করবে বলে মনে হয় না।
আবেদনে ফাতাও বেনসুউদা বলেছেন, ‘ঘটনাটির তদন্ত করা ও প্রয়োজনে বিচার করা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত কিনা সে বিষয়ে এটা সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন, কোনও বিমূর্ত প্রশ্ন নয়।’
তবে ওই ঘটনার তদন্ত করার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার সম্ভাব্যতা আসছে কারণ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হলেও মিয়ানমার তার সদস্য নয়।
রাখাইনদের সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধের সংজ্ঞা কি হবে তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও অপরাধ আদালতের সীমাবন্ধতা আছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
কোর্টে প্রথমে মামলা দাখিল করা এবং পক্ষে বিপক্ষের যুক্তি তর্কের শুনানি হবে কি না তা জানতে চেয়ে আবেদন করেন ফাতাও বেনসুউদা।
আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তার আবেদন বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে বলেন আমাদের পরবর্তী করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে পুলিশ চেকপোস্টে সহিংসতার পর বহুদিন ধরে চালানো রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহর’ বলে উল্লেখ করেছে। একে নিধনযজ্ঞ বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও।
তবে মিয়ানমার তাদের বিরুদ্ধে আনিতে এ অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।মিয়ানমার দাবি করে রোহিঙ্গারা তাদের সরকারি বাহিনীর উপর আক্রমণ চালিয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি অবৈধ জণগোষ্ঠী হিসাবে বিবেচনা করে থাকে।







