তীব্র রোদ আর প্রবল বৃষ্টির দুর্ভোগ এরই মধ্যে পেরিয়ে এসেছে মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।
এবার তাদের জন্য নতুন দুর্ভোগ তৈরি করছে ঠাণ্ডা বাতাস। সামনে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নির্মম শীতকাল।
কক্সবাজারের যেসব ক্যাম্পে এখন রোহিঙ্গারা বসবাস করছে সেখানে বিগত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের পর এখন বয়ে যাচ্ছে ঠাণ্ডা বাতাস। আর তাতে আরো বেশি কঠিন হয়ে উঠছে রোহিঙ্গাদের জীবন যাপন। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কোনো গরম পোশাকও নেই।
সেবা ও ত্রাণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এভাবে পরিবেশের হঠাৎ পরিবর্তনের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। ফলে পরিস্থিতি মোকাবেলার পর্যাপ্ত জিনিসও তাদের কাছে ছিলো না। যদিও এরই মধ্যে কিছু বিদেশি ও দেশি সাহায্যকারীরা রোহিঙ্গাদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছে। তারপরও সেটা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।
বালুখালী ক্যাম্পে বসবাসকারী লতিফ আহমেদ স্ক্রল.ইনকে জানান, তার পলিথিনের তাবুটি ঠাণ্ডা বাতাস মোটেও রোধ করে না। ফলে তার ছোট ছোট তিন নাতিই ভুগছে জ্বরে।
মোসাম্মত খাদিজা ক্যাম্পে তার জীবনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, মিয়ানমারে আর্মিরা আমাদের ধ্বংস করেছে আর এখানে হঠাৎ বৃষ্টি অথবা ঠাণ্ডা বাতাস। আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই।
তবে কিছু রোহিঙ্গা একটু ভালো উপাদানে তৈরি তাবু পেয়েছেন। জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলমগীর একটু মোটা কাপড়ে তৈরি তাবু পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান এইডের কাছ থেকে, যেটা কিনা পরিবর্তিত আবহাওয়ায় মানিয়ে নিতে কিছুটা সক্ষম।
ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. মনির উদ্দিন বলেন, শীত চলে আসছে। তাই এরই মধ্যে আমরা জামতলী ও বার্মাপাড়া ক্যাম্পে ৬০০০ রোহিঙ্গা পরিবারে ১২,০০০ কম্বল বিতরণ করেছি।
ঠাণ্ডা বাতাসের জন্য রোহিঙ্গাদের মধ্যে নিউমোনিয়া, কাশি ও জ্বরের প্রকোপও বাড়ছে। কুতুপালং ক্যাম্প, যেখানে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। সেখানকার পরিস্থিতি আরো খারাপ। তিন লাখ রোহিঙ্গা বসবাসকারী এই ক্যাম্পে কারোরই নেই কোনো শীতের পোশাক। ফলে ঠাণ্ডাজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারে।
কোনো কোনো রোহিঙ্গা আগুন জ্বালিয়ে একটু উষ্ণতা আনার চেষ্টা করলেও সেখানকার কর্তৃপক্ষ আগুন জ্বালানো নিষিদ্ধ করেছে এমন জনবহুল একটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে।
কুতুপালং ক্যাম্পের জেনারেল সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম এবং কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ড. মোহাম্মদ আবদুস সালাম আগেই সতর্ক করেছেন রোহিঙ্গারা শীতের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত নয়।








