ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনে (আরসিবিসি) সুইফট কোডের
মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ইউএস
ডলার চলে যাওয়ার পর সেই লেনদেন বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো বার্তা ‘অতি অগ্রাধিকারমূলক ছিলো না। বরং কিছু ক্ষেত্রে তা ছিলো অস্পষ্ট।’
ফিলিপিন্সের সিনেটের ব্লু রিবন কমিটিতে মঙ্গলবার রিজার্ভ চুরি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের ত্রুটি নিয়ে এমন তথ্য জানান আরসিবিসির আইনী ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক প্রধান মারিয়া সেসিলিয়া এসতাভিলো।
তবে কোনো বেসরকারী ব্যাংককে অন্য একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্তা পাঠানোর ঘটনা অনেক গুরুত্ব বহন করে বলে মন্তব্য করেন সিনেটর গুইগোনা। আর অন্যদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকায় এই ধরণের আবেদন করাই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিএসপির কর্মকর্তা নেনিতা কাদাপান।
শুনানিতে মারিয়া বলেন, ‘যেহেতু সেখানে ৭০০ এরও বেশি বার্তা ছিলো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো কোনো বার্তাই অতি অগ্রাধিকারের ছিলো না, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পড়া হচ্ছিলো।’
গত ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের (সুইফট) ৭৯০টি বার্তাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১১টি ‘সাধারণ অগ্রাধিকারমূলক’ ফ্রি ফরম্যাটের বার্তা আরসিবিসিকে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
অন্য একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের বার্তা পাওয়াটাও গুরুত্ববহ মন্তব্য করে সিনেটর তিওফিস্তো গুইগোনা এসতাভিলোকে বলেন, সুইফট কোডগুলো দেখেই তুমি জানতে পারবে তা একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এসেছে। আর তাদের কাছ থেকে বার্তা পাওয়া প্রতিদিনকার ঘটনা নয়।
তবে আরসিবিসির আইনজীবী এর জবাবে বলেন, প্রথমে তারা বুঝতে পারেননি যে বার্তাটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসেছে ।
ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বিএসপি) সুইফট ম্যাসেজিংয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেনিতা কাদাপান সিনেটে বলেন, কোন ব্যাংক এবং কোন জায়গা থেকে সুইফট বার্তাটি এসেছে তা ‘বিক কোড’এর মাধ্যমে গ্রহণকারীর জানার কথা।
একই রকম প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় এবং কোন সম্পর্ক না থাকার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক আরসিবিসিকে লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে অতি অগ্রাধিকারের “এমটি ১৯২” আবেদনও পাঠাতে পারে না বলে মন্তব্য করেন নেনিতা।
বিএসপির ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ছিলো ফ্রি ফরম্যাট বার্তা পাঠানো, যা তারা করেছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তা কম গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। তাদের (আরসিবিসি) এটা দেখা উচিত ছিলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ইউএস ডলার
প্রবেশের নির্দেশনা দিয়ে আরসিবিসি ব্যাংকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি একটি সুইফট কোড
পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাকিংয়ের খোঁজ পেয়ে এর ৫
দিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি অর্থ ফেরত বা লেনদেন স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো সুইফট কোড পায় আরসিবিসি। তবে তার আগেই চুরি করা অর্থ ফিলিপিন্স থেকে হংকং-এর বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে চলে যায়।








