ইশতেহার ঘোষণার সূচনা বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেছেন: ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মতো আমরাও বলতে চাই রাষ্ট্রের মেরামত প্রয়োজন।’
সোমবার বেলা ১১টায় থেকে রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করছে ঐক্যফ্রন্ট। এতে সূচনা বক্তব্য রাখেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।
তিনি বলেন: দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল কিন্তু এই নির্বাচন আর সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের নানা রকম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আমাদেরকে শঙ্কিত করেছে৷
কামাল হোসেন বলেন: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নামে যে প্রহসনটি হয়েছিল সেটা সংবিধানে বর্ণিত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই এই জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিকানা হয়েছিল৷ জনগণ যখন রাষ্ট্রের মালিক থাকে না তখন রাষ্ট্রের মালিক হয়ে পড়ে কায়েমী স্বার্থবাদী দেশি বিদেশি নানা গোষ্ঠী। এর মাশুল দিতে হয়েছে এ দেশের মানুষকে।
তিনি আরো বলেন: ‘এই রাষ্ট্রটি মানুষের জন্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে কিনা, সেটা নিশ্চিত হবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যদি এই রাষ্ট্র জনগণের হাতে আবার ফেরত যায়। জনগণ তার মালিকানা ফিরে পায়। জনগণের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ তখনই নিশ্চিত হতে পারে যখন সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই রাষ্ট্রের মালিক হবে জনগণ।’
তিনি বলেন: ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মতো আমরাও বলতে চাই রাষ্ট্রের মেরামত প্রয়োজন৷ আগামী সাধারণ নির্বাচনের দিন ৩০ ডিসেম্বর। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিশ্বাস করে সেদিন দলে দলে, জনে জনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে, ভোট দেবে, ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটের অনিয়ম রুখবে, ভোট শেষ হবার পর নিজেদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া দেখে বাড়ি ফিরবে৷ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এক গণঅভ্যুত্থানের দিন ৩০ ডিসেম্বর।’
তিনি বলেন: ‘আজকে এই দিনটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, আজ আমরা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছি৷ এটা জনগণের ইশতেহার৷ জনগণের কল্যাণ, জনমতের ভিত্তিতে এটা তৈরি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তুলতে জনগণের মতামতকেই সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দেয়ার প্রচেষ্টা থাকবে৷ বাংলাদেশ হবে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত শান্তি ও সুখের বাংলাদেশ।’
‘আমরা এখনও আশাবাদী, পরিশেষে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলার জনগণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে৷ পুনরুদ্ধার হবে গণতন্ত্র৷ আমরা সকলের কল্যাণ ও শান্তিময় নিরাপদ জীবন ও শান্তিময় ভবিষ্যৎ কামনা করছি৷’
এসময় তিনি অভিযোগ করেন: তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৯০০ জন গ্রেপ্তার হয়ে গেছে। ‘১৩ দিনে এই হারে গ্রেপ্তার বন্ধ যদি না হয় তবে কি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? তারপরও জনগণকে বলছি, মালিকানা ফিরে পেতে হবে।’
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর ইশতেহার পাঠ শুরু করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না৷








