শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রহমান বলেছেন, কখনো কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না শফিক রেহমান। তালেয়া রহমান জানিয়েছেন, ভোর ৬ টার দিকে সাদা পোশাকে তিন ডিবি কর্মকর্তা ইস্কাটনে শফিক রেহমানের বাসায় আসেন। সকাল পর্যন্ত বাসভবনের নিচেই অপেক্ষা করেন তারা। তিনি যখন কাপড় চোপড় পড়ে নিচের দিকে নামতে গেছেন ততক্ষণে পুলিশ উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে। সকাল সোয়া ৮টার দিকে শফিক রেহমান নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাকে রাজনৈতিক কারণে হায়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তালেয়া রহমান বলেন, উনি তা লেখক আর লেখকের বিরুদ্ধে যদি চক্রান্তর কথা আনা হয় নাশকতার কথা আনা তবে এটা মানায় না।
তালেয়া রহমান বলেছেন, সকাল সাড়ে সাতটায় জানলাম যে একটি বেসরকারি টেলিভিশন থেকে
ইন্টারভিউ নিতে এসেছে। তখনও শফিক রেহমান ঘুমিয়ে ছিলেন আমি তখনো ডাকিনি। পরে
উনি উঠলেন টেলিভিশনের ইন্টারভিউয়ের কথা শুনে উনি আবার শেভ করতে বসলেন।
এরপর কাপড় পরে রেডি হয়ে নিচে নামতে গেছেন তখন তাকে ডিবি ধরে নিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, সে যে এমন চক্রান্ত করবে এমন লোকই না। আমি সংগতভাবে এর বিরোধিতা করছি এবং এটার বিরোদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিচ্ছি।
পুলিশের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হচ্ছে সে দাবি যৌক্তিক কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একেবারে যৌক্তিক মনে করি না। সে এমন কাজের সাথে কখনোই জড়িত নয়।
তালেয়া রহমান দাবি করেন, কোন রকম চক্রান্ত বা মেরে ফেলার বিষয়টি অবিশ্বাস্য মিথ্যা। আমি বার বার বলছি এরমধ্যে সে নাই।
আপনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন কীভাবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তালেয়া রহমান বলেন, ডিবি অফিস থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওযাজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়।
এ ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিক রেহমানের স্ত্রী।
শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে শফিক রেহমানের মুক্তি দাবি জানিয়েছে বিএনপি। অবিলম্বে শফিক রেহমানকে মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচির কথা বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সকালে গ্রেফতারের পর আদালতে নেওয়া হলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।







