মেসি-রোনালদোরা চাইলে নিজেদের সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারেন, দেশের হয়ে তেমন কোনও শিরোপা জিততে না পারলেও এক শিরোপার দৌড়ে এই দুই জন অনেক এগিয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। রোনালদো তাও ২০১৬ সালে ইউরো কাপ উঁচিয়ে ধরেছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে এক অলিম্পিকে সোনা জেতা ছাড়া আর কোনও কিছুই জেতা হয়নি মেসির। কিন্তু এই দুইজনের হাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিটা উঠেছে সাতবার। শনিবার রাতে জুভেন্টাসকে যদি রিয়ালমাদ্রিদ হারিয়ে দেয় তাহলে সংখ্যাটা চলে যাবে আটে। কিন্তু অনেক কিংবদন্তি আছেন, যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেননি। তাদের নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের এই আয়োজন।
ডিয়েগো ম্যারাডোনা:
১৯৮৬ সালে একাই আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ। বার্সেলোনা মাতিয়ে নাপোলিতে যোগ দিয়েছিলেন। দলটির হয়ে সিরি আ শিরোপা জেতা হয়েছে। তার আমলে নাপোলি উয়েফা কাপ (এখন ইউরোপা লিগ) শিরোপা ঘরে তুলেছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (তৎকালীন কন্টিনেন্টাল কাপ) আক্ষেপ মেটেনি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির।

রোনালদো:
‘দ্যা ফেনোমেনন’ মাতৃভূমি ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন দুইবার। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পরই যোগ দেন তারকাবহুল রিয়াল মাদ্রিদে। বেকহ্যাম, জিদান, রবার্তো কার্লোস, রোনালদো, লুইস ফিগোদের নিয়ে গড়া গ্যালাকটিকোসরা যেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাই ভুলে যান। রোনালদো রিয়ালে যোগ দেয়ার ঠিক আগের মৌসুমেই নবম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে লস ব্লাঙ্কোসরা। ইন্টার মিলান-এসি মিলান কিংবা বার্সেলোনায় খেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা আজন্ম আক্ষেপ হয়ে থাকবে সিনিয়র রোনালদোর।
রোমারিও
নিজেকে দাবী করেন সর্বোচ্চ গোল স্কোরার হিসেবে। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের জয়ের নায়ক রোমারিও নিজেকে তাও সান্ত্বনা দিতে পারেন ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে কন্টিনেন্টাল কাপ (আজকের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জেতার খুব কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু পাওলো মালিদিনির এসি মিলানের কাছে হেরে ইউরোপ সেরার আশা বিসর্জন দিতে হয়েছে তাকেও। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পিএসভি আইন্দহোফেনের ফাইনাল খেলেছেন ১৯৮০ সালে। কিন্তু তখনও ছিলেন ব্যর্থ।

লোথার ম্যাথিউস
১৯৯০ সালে পেনাল্টি শটে আর্জেন্টিনার মন ভেঙে জার্মানির ঘরে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন জার্মান অধিনায়ক। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে তারই মন ভেঙে বায়ার্ন মিউনিখকে কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিজেদের ঘরে নিয়ে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ডেভিড বেকহ্যামদের পাগলাটে প্রত্যাবর্তন আজও কাঁদায় বিশ্বকাপজয়ী জার্মান অধিনায়ককে। ২০০০-০১ সালেও ম্যাথিউসের হাতে ইউরোপ সেরার ট্রফি উঠতে দেয়নি ভ্যালেন্সিয়া।

রবার্তো বাজ্জিও
ইতালির লিগে খেলা অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এই আর্জেন্টাইন। কিন্তু তার জন্যও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আজন্ম এক আক্ষেপ। ইন্টার মিলানের হয়ে ফাইনাল খেলা তো দূরের কথা একবারই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পেরেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে বেকহ্যামের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে বাদ পড়তে হয় ইন্টার মিলানকে। সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চার গোল করেছিলেন বাজ্জিও।








