যুদ্ধের ভয়াবহতায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে মাতৃভূমি আফগানিস্তান ছেড়ে শরণার্থী হয়ে ইরানে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাজ্জাদ হুসাইনি আট বছর বাদে আবার যখন নিজ ভূমে ফিরলেন, সঙ্গে নিয়ে ফেরেন এক জোড়া স্কিয়িং বোর্ড। সঙ্গী আরেক স্কিয়ার সৈয়দ আলিসা ফারহাংকে নিয়ে চালিয়ে গেলেন অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা।
তাতে শুধু সফলই নন, আফগানদের হয়ে ইতিহাস গড়া হয়ে গেছে সাজ্জাদ-ফারহাং জুটির। ২০১৮ সালে উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে বসতে যাওয়া উইন্টার অলিম্পিকসের আসরে প্রথমবারের মত আফগানিস্তানের পতাকা ওড়াবেন এই দুই আফগান স্কিয়ার।
২০১২ সাল থেকে আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশে নিবিড় অনুশীলন চালিয়ে গেছেন সাজ্জাদ ও ফারহাং। স্বপ্ন দেখেছেন দেশকে উইন্টার অলিম্পিকসের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার। স্বপ্নটা এখন বাস্তব। সেটাকে আরও অর্থবহ করে দেশকে একটি পদক এনে দেয়ার লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের সেন্ট মরিজ রিসোর্টে প্রশিক্ষণ চলছে তাদের।
আফগানিস্তানকে প্রথমবারের মত উইন্টার অলিম্পিকসের মঞ্চে নিতে পারার আনন্দে ভাসছেন, গর্বও হচ্ছে খুব। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পতাকা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে হাঁটছেন, এমন স্বপ্নে বিভোর সাজ্জাদ, ‘আমরা আফগানিস্তানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করব। বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, আফগানিস্তান এখন মোটেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ নয়।’
একই প্রত্যয় ফারহাংয়ের কণ্ঠেও, ‘আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চাই। এটা দারুণ হবে।’







