টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে জাতীয় দলের সঙ্গে প্রথমদিনের কাজে নেমেছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। মিরপুরের একাডেমি মাঠে পেসারদের নিয়ে চলছে তার ক্লাস। গুড লেংথে বল ফেলার জন্য রেখেছিলেন মার্কার। বলের এক দিক সাদা, আরেক দিক লাল। যাতে বলের মুভমেন্ট খালি চোখেই বোঝা যায়। ডাগআউটে বসে উত্তরসূরিদের সেই বোলিং দেখছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম বলটি করা গোলাম নওশের প্রিন্স। মোস্তাফিজ-তাসকিন-রুবেলদের বোলিংয়ে চোখ রেখেই গল্প-আড্ডায় মাতলেন নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন ও হাবিবুল বাশারের সঙ্গে।
গোলাম নওশের একসময় নির্বাচক ছিলেন। আজকের সাকিব-তামিম-মুশফিকরা বিসিবির সিলেকশন প্রক্রিয়ায় এসেছে তার সময়েই। তরুণদের দলে এনে ২০০৭ বিশ্বকাপে সাফল্যও পায় বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেটের এই আইকন নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারলেন না তরুণদের বোলিং করতে দেখে, মেন্টর হিসেবে যোগ দিলেন সুজনের ক্লাসে। বোলিংয়ের টেকনিক, ট্যাকটিস নিয়ে বোঝালেন মোস্তাফিজদের।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থিতু হওয়া প্রিন্স ১০ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। বছরে একবার করে দেশে এলেও নানা ব্যস্ততায় মাঠে আসা হয়ে ওঠে না তার। এবার সুযোগ করে উত্তরসূরিদের দেখতে এসে দিয়ে গেলেন সাফল্যের নানা মন্ত্রও! নেটে নিজেও কয়েকটি বল করলেন।

উত্তরসূরিদের কাছে পেয়ে নওশের ফিরে গিয়েছিলেন অতীতে। চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘বিশ্বাস করেন, মনে হচ্ছিল আমার সেই পুরনো দিনগুলোই। ক্রিকেটারদের সাথে গল্প করছি, মজা করছি। তাদের সঙ্গে সময়টা বেশ উপভোগ করেছি। ভাল দিক হল তারাও খুব মনোযোগ সহকারে কথাগুলো শুনেছে। আশা করবো সেখান থেকে ভাল জিনিসগুলো ওরা নেবে। আমি তো আর কোচ না। সারা জীবন কষ্ট করে ক্রিকেট শিখেছি। যেটা আমি জানি সেটাই ওদের দেয়ার চেষ্টা করেছি।’
প্রিন্স নিজে ছিলেন বাঁহাতি সুইং পেসার। গতিও ছিল বেশ। মোস্তাফিজ বাঁহাতি পেসার বলেই কিনা একটু বেশিই যত্নবান হলেন কাটার মাস্টারকে নিয়ে। অ্যাকশন ও ইনসুইং দেখালেন হাতে ধরে, ‘সবাই বলে ইনসুইং, আমি যতবার আসি ততবার বলি মোস্তাফিজের ইনসুইং শেখা দরকার। ইনসুইংটা কীভাবে করতে হবে এ ব্যাপারে কিছু টেকনিক আমি বলেছি।’

১৯৮৬ থেকে ১৯৯০, সময়টাতে বাংলাদেশের হয়ে প্রিন্স খেলেছেন ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিজের অভিজ্ঞতার সেসব ঝুলি থেকেই দিয়েছেন নানা পরামর্শ, ‘বোলিংয়ের কিছু সাজেশন দেয়ার চেষ্টা করেছি। কীভাবে আমি করতাম। দিনে দিনে তো পরিবর্তন হয়েছে, এখন কোচ আসছে। কোচ তো আসবে যাবে। কিন্তু এটা তোমাদের নিজেদের মাথায় রেখে করতে হবে। এটা কিন্তু তোমাদের দায়িত্ব, মাঠের ভেতরে বোলিং করার ট্যাকটিসটা তোমারই। কোচ শুধু বলে দেবে, ওটা তোমাদের নিজেদের হ্যান্ডেল করতে হবে। কোচ আসবে-যাবে, কিন্তু তোমাদের নিজেদের সম্পদ মনে করে ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।’
ভিডিও রিপোর্ট:








